রেষারেষিতে প্রাণ হারাল খুদে ছাত্র, ঘাতক বাসগুলির বিরুদ্ধে আগে থেকেই ১২৬টি মামলা!

ঘাতক বাসগুলির বিরুদ্ধে আগে থেকেই ১২৬টি মামলা! সল্টলেকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শহরবাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। ১২ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মায়ের স্কুটারে থাকা তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র বাস রেষারেষির…

November 19, 2024
0 min read

ঘাতক বাসগুলির বিরুদ্ধে আগে থেকেই ১২৬টি মামলা!

সল্টলেকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শহরবাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। ১২ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মায়ের স্কুটারে থাকা তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র বাস রেষারেষির শিকার হয়ে প্রাণ হারায়। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২১৫ এ/১ রুটের দুটি বাসের মধ্যকার রেষারেষির কারণে। মৃতের বাবা বিধাননগর উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে তিনি জানান, বাসগুলির রেষারেষির জেরে একটি বাস তাদের স্কুটারকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার পুত্রের মৃত্যু হয়।

১২৬টি মামলা: বাসের ইতিহাসে কালিমা

দুর্ঘটনার পরে বাস দুটিকে আটক করে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—দুটো বাসের মালিক একই ব্যক্তি এবং এই বাসগুলির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ১২৬টি মামলা ঝুলছে। প্রথম বাসটির বিরুদ্ধে ৬২টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৫৮টি সাইটেশন এবং চারটি কম্পাউন্ড মামলা। দ্বিতীয় বাসটির বিরুদ্ধে রয়েছে ৬৪টি মামলা।

পরিবহণ দফতরের পদক্ষেপ

এই ভয়াবহ ঘটনার পরে পরিবহণ দফতর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। সংস্থা স্বীকার করে নেয় যে এমন অগণিত মামলা থাকা সত্ত্বেও বাসগুলির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। এক পরিবহণ কর্মকর্তা বলেন, “এই ঘটনাগুলি আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলির প্রতিচ্ছবি। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

বাস রেষারেষি: এক দীর্ঘকালীন সমস্যা

শহরের বাস রেষারেষি নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতিদিন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাত্রীদের আকর্ষণ করতে বাসগুলির প্রতিযোগিতা একটি প্রচলিত সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে, আর মানুষ প্রাণ হারায়। কিন্তু সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং শাস্তির অভাবে এই প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না।

কড়া নিয়ন্ত্রণের ডাক

এখন পরিবহণ দফতর আরও কঠোর আইন প্রণয়ন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা ভাবছে। প্রতিটি বাসের জন্য জিপিএস ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা এবং রেষারেষি বা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে দ্রুত জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নিহতের পরিবার ও শহরবাসীর ক্ষোভ

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা শুধু নিহত শিশুর পরিবার নয়, গোটা শহরবাসীকে ক্ষুব্ধ করেছে। তারা প্রশ্ন তুলেছে, এতগুলো মামলা থাকা সত্ত্বেও এই বাসগুলির বিরুদ্ধে কীভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এটি প্রশাসনের উদাসীনতার এক নগ্ন উদাহরণ।

এই ঘটনাটি একটি সতর্কবার্তা—যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, এমন দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হবে না।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *