কেষ্ট-সাক্ষাৎ নিয়ে শতাব্দীর মন্তব্য
বীরভূমে গরু পাচার মামলায় জামিন পেয়ে অনুব্রত মণ্ডল ফেরার পর থেকে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় ও জেলা সভাপতির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। শতাব্দী রায় ও কাজল শেখ, দুজনের সঙ্গেই অনুব্রতের সুসম্পর্কের কথা আগেই শোনা গেছে। কিন্তু সম্প্রতি দেখা গেছে, দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁরা একত্রিত হচ্ছেন না।
বীরভূমে ফেরার পর কেষ্ট নামে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডল প্রায় সব বিজয়া সম্মিলনীতে অংশ নিলেও, শতাব্দী ও কাজল দুজনেই সেই সব অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়ে শতাব্দী রায় সোমবার সিউড়িতে অম্রুত-২ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “দেখা করতে কোনও নির্দিষ্ট দিন ঠিক করিনি। দেখা হলে হবে।”
দলের কর্মসূচিতে দূরত্ব
গত সেপ্টেম্বরে অনুব্রত যখন তিহাড় জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বীরভূমে ফেরেন, তখন তাঁকে স্বাগত জানাতে তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী ভিড় জমিয়েছিলেন। কিন্তু সেই তালিকায় ছিলেন না শতাব্দী রায় ও কাজল শেখ। এমনকি, জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকেও তাঁরা একসঙ্গে যোগ দেননি।
গত শনিবার কোর কমিটির বৈঠকে প্রথমবার উপস্থিত হন অনুব্রত। যদিও তিনি এই কমিটির সপ্তম সদস্য হবেন নাকি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে এখনও দলীয় মহলে ধোঁয়াশা। কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী বলেন, “অনুব্রত মণ্ডলের সিদ্ধান্ত কি উপেক্ষা করা যায়?” অন্যদিকে, বৈঠকে কাজল ও শতাব্দী উভয়েই জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তে দল চলে এবং দলের ঐক্য বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন।
দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব?
অনুব্রত প্রসঙ্গে শতাব্দী আগেই বলেছিলেন, “ভাল, খুব ভাল। যে কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক, তাঁরা খুশি।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য অনুব্রত ও শতাব্দীর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। শতাব্দী রায়ের সাংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি বলেছিলেন, “কেষ্টদার সঙ্গে দেখা করতে আসব।” তবে এখনও সেই দেখা হয়নি।
তৃণমূলের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে জেলা নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। অনুব্রত মণ্ডল কোর কমিটির সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছে। তবে অনুব্রতর চেয়ারম্যান হওয়া নিয়ে বিতর্ক ও দ্বৈরথ আরও কিছুদিন চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের এই দূরত্ব বীরভূমের রাজনৈতিক পরিবেশকে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব বিষয়টিকে সাময়িক দূরত্ব হিসেবে দেখছে, তবে এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা দীর্ঘমেয়াদি হবে তা সময়ই বলবে।