গরম চা পড়ে যাত্রীকে পুড়িয়ে দেওয়ার ‘মাসুল’! ৫০ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি, স্তম্ভিত বিমান সংস্থা
একটি ঢাকনা ছাড়া গরম চা পরিবেশন করার কারণে বিমানে এক যাত্রী তার ত্বকে দ্বিতীয় ডিগ্রি পোড়া সমস্যায় ভুগেছেন, এবং এর জন্য তিনি ৫০ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা ঘটে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে কায়রো যাওয়ার একটি বিমানে, যেখানে ইজিপ্ট এয়ারের বিমান সেবিকা গরম চা পরিবেশন করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত এক যাত্রীর গায়ে গরম চা ফেলে দেন।
মধ্য আকাশে এক অপ্রত্যাশিত ঝাঁকুনিতে বিমান সেবিকা সামনের আসনে গিয়ে পড়ে যান, এবং তার হাত থেকে গরম চায়ের কাপ উল্টে পড়ে যায় এক যাত্রীর ওপর। সেই যাত্রী, ৩৫ বছর বয়সী এসরা হেজেইন, যিনি নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করেন, তার অভিযোগে জানিয়েছেন যে চায়ের গরম পানীয় তার শরীরে পড়ার কারণে তার ত্বক পুড়ে যায়। বিশেষ করে, তার তলপেট, ডান দিকের উরুর ভিতরের অংশ এবং কোমরের নীচের অংশে সেকেন্ড ডিগ্রি বার্ন হয়।
মামলার বিষয়টি আদালতকে ব্যাখ্যা করে এসরা হেজেইন বলেছেন, এই দুর্ঘটনা পুরোপুরি অনিবার্য ছিল না। তার দাবি, বিমান সেবিকা জানতেন যে বিমানে ঝাঁকুনি হওয়া সাধারণ ব্যাপার, তাই তাকে আরও সতর্ক থাকতে হতো। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকনাহীন কাপ দিয়ে গরম চা পরিবেশন করাটা ছিল অসতর্কতার চরম উদাহরণ। এক ছোট্ট ঢাকনা ব্যবহারের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। তিনি মনে করেন, একটি ঢাকনার মূল্য বাঁচাতে গিয়ে যাত্রীদের ওপর এমন ভয়ানক ক্ষতি করা উচিত ছিল না।
এই ঘটনাটি ঘটেছিল মাঝ আকাশে, যখন বিমানটি নিউ ইয়র্ক থেকে কায়রো যাচ্ছিল। বিমানের সেবিকা ট্রেতে গরম চা পরিবেশন করার সময়, বিমানটি এক অপ্রত্যাশিত ঝাঁকুনি পায়, যার ফলে সেবিকাটি হোঁচট খেয়ে সামনের আসনে পড়ে যান এবং চায়ের কাপটি উল্টে যায়। চা সেই যাত্রীর শরীরে পড়লে তার ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও সেবিকাটি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেননি, তবুও যাত্রীটির অভিযোগ, তিনি যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেননি, এবং গরম পানীয় পরিবেশন করতে গিয়ে একটি ঢাকনা ছাড়া কাপ ব্যবহার করে যে ভুল করেছিলেন, তার জন্য তাকে বিপদে পড়তে হয়েছে।
এসরা হেজেইন ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি ৫০ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি টাকারও বেশি। তবে বিমান সংস্থাটি এখনো সরাসরি এই আইনি চিঠির কোনও জবাব দেয়নি, তবে সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে যে বিমান কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীর ক্ষতিপূরণের অঙ্ক শুনে স্তম্ভিত। কর্মকর্তারা ভাবছেন, একটি ঢাকনার জন্য এত বিশাল ক্ষতিপূরণের দাবি কি যথাযথ?
এই ঘটনা বিমান সংস্থাগুলোর জন্য একটি সতর্কতা। যদিও মাঝ আকাশে ঝাঁকুনি হওয়া বা দুর্ঘটনা ঘটানো কোনও নতুন ঘটনা নয়, তবে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিমান সংস্থাগুলোর আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। সাধারণত, এমন কিছু ঘটনা যেন হয় না, সেজন্য বিমানসেবিকাদের উচিত সঠিক প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একটি ছোটখাটো ঢাকনা না ব্যবহার করার ফলে এক যাত্রীকে এই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হল, যা নিঃসন্দেহে বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত।
এসরা হেজেইন এখনও তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং তার ক্ষতির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। আদালতে তিনি এই বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, তার ক্ষতিপূরণের পরিমাণ তাকে তার শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দিতে সক্ষম হবে। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে যদি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এটি আরও বড় আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে, যা বিমান সংস্থার জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিমান যাত্রার সময় সুরক্ষা এবং সতর্কতা প্রতিটি যাত্রী এবং বিমান কর্মীর জন্য অপরিহার্য। এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত।