আইসিসি’র বিপাকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সূচি
ভারতের আপত্তির কারণে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের লাহোরে আগামী বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি বদলানোর ফলে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জানিয়ে দিয়েছে যে তারা ভারতীয় দলকে পাকিস্তানে পাঠাবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি এই অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সূচি ঘিরে অনিশ্চয়তা
২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, যেখানে বিশ্বের সেরা আটটি দল অংশগ্রহণ করবে। ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথমবার পাকিস্তানে আইসিসির একটি বড় টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে বিসিসিআই জানিয়েছে, তাদের দল পাকিস্তানে যেতে পারবে না, কারণ এটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। ফলে বিসিসিআই হাইব্রিড মডেলের দাবি জানিয়েছে, যার অধীনে কিছু ম্যাচ পাকিস্তানের বাইরে অনুষ্ঠিত হবে। এই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সূচি ঘিরে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
সোমবার, ১১ নভেম্বর, লাহোরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আইসিসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘‘এখনও প্রতিযোগিতার সূচি চূড়ান্ত করা হয়নি। অংশগ্রহণকারী দেশগুলির সাথে আলোচনার মাধ্যমে সূচি নির্ধারণ করার পর তা ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’’ তবে আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি ঠিক কী কারণে লাহোরের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
পিসিবির হাইব্রিড মডেল নিয়ে আপত্তি
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, ‘‘পাকিস্তানে কোনও দেশ তাদের দল পাঠাতে না চাইলে, তাদের তা লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং কারণ উল্লেখ করতে হবে। তবে এখনও পর্যন্ত হাইব্রিড মডেল নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি।’’ নকভির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে পিসিবি হাইব্রিড মডেলে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পক্ষে নয় এবং তাঁরা চান না পাকিস্তান থেকে প্রতিযোগিতার কোনও অংশ অন্য দেশে সরানো হোক। তবে আইসিসি বিকল্প ভেন্যু হিসাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং শ্রীলঙ্কার কথা বিবেচনা করছে।
ভারতের সূচি এবং পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা
প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ভারতীয় দলের প্রথম ম্যাচ ছিল ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এরপর রোহিতদের ২৩ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড এবং ১ মার্চ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে হতো। এই সব ম্যাচই লাহোরে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিসিসিআই পাকিস্তানে দল পাঠাতে নারাজ, তাই আইসিসির জন্য এটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও একই কারণে এশিয়া কাপ হাইব্রিড মডেলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার ফলে পাকিস্তান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ম্যাচগুলি বিভক্ত করে আয়োজন করা হয়।
তবে এবার পিসিবি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ক্ষেত্রে এমন কিছু করতে নারাজ। পিসিবির অবস্থান স্পষ্ট যে, পাকিস্তানের বাইরে কোনো ম্যাচ হলে তারা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অংশ হবেন না। আইসিসি বিভিন্ন দলের স্বার্থ ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই জটিলতা মেটানোর চেষ্টা করছে। তবে এই অবস্থায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সূচি এবং ভেন্যু চূড়ান্ত করতে আইসিসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো
আগামী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেবে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর, যেমন লাহোর, রাওয়ালপিণ্ডি, করাচি এবং মুলতানে এই ম্যাচগুলি আয়োজন করার কথা রয়েছে। ভারতের আপত্তির কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সূচি ও ভেন্যু নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভাব ফেলছে এবং বড় প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে আইসিসিকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।