জগদ্ধাত্রী পুজো
এখন আর বেশি দেরি নেই। আগামী শুক্রবার, অর্থাৎ ১১ নভেম্বর, শুরু হচ্ছে জগদ্ধাত্রী পুজো। কিন্তু এই পুজো একদিনের নয়, চন্দননগরে চারদিন ধরে পালন করা হবে এই পুজো। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো পৃথিবীজুড়ে প্রসিদ্ধ, এবং এর মহিমা সকলের কাছে অজানা নয়।
এবারের পুজোতে একটি নতুনত্ব যোগ হচ্ছে। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর শোভাযাত্রা এবার সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ নিয়েছে। ১১ নভেম্বর সন্ধে থেকে পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১২ নভেম্বর ভোর পর্যন্ত চলবে এই শোভাযাত্রার সম্প্রচার। এর ফলে, এবার বাড়িতে বসেই প্রত্যেকে দেখতে পারবেন এই বিখ্যাত শোভাযাত্রা।
চন্দননগর জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে শহরটি এখন সাজো সাজো রব। প্রতিবারের মতো এবারও অসংখ্য মানুষ এই পুজো দেখার জন্য চন্দননগরে ভিড় জমাবেন। চারদিনের এই পুজোর প্রধান আকর্ষণ হল সেই ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রা এক ধরনের পুজো কার্নিভালের মতো, যেখানে আলোর সাজানো লরিতে সুসজ্জিত প্রতিমা থাকছে। সঙ্গে বাজনার তালে তালে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
শোভাযাত্রা চলাকালীন, একের পর এক প্রতিমা গঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। এই শোভাযাত্রা দেখতে রাস্তার দু’ধারে লাখো মানুষের ঢল নামে। চন্দননগরের শহরের সৌন্দর্য এবং মানুষের উচ্ছ্বাস এই পুজোকে এক ভিন্ন মাত্রা দেয়।
যাঁরা চন্দননগরে থাকেন অথবা বিদেশে থাকেন, তাঁদের সুবিধার কথা চিন্তা করে কেন্দ্রীয় কমিটি এই লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করছে। কমিটির সহ-সম্পাদক শুভজিৎ সাউ জানিয়েছেন, “চন্দননগর স্ট্যান্ড ও তালডাঙায় দুটি মঞ্চ বানানো হবে। সেখান থেকে আমাদের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। অনেক মানুষ আছেন যারা হয়তো শোভাযাত্রা দেখতে আসতে পারেন না, বা বিদেশে থাকেন। তাদের জন্যই এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
চন্দননগর জগদ্ধাত্রী পুজোর কেন্দ্রীয় কমিটির আওতায় মোট ১৭৭টি পূজো রয়েছে। এর মধ্যে চন্দননগরে ১৩৩টি এবং ভদ্রেশ্বরে ৪৪টি। শোভাযাত্রায় অংশ নেবে ৬৯টি পূজো। ফলে, প্রতি বছরকার মতো এবারও আয়োজন হচ্ছে এক অসাধারণ অনুষ্ঠান।
এই পুজোর মাধ্যমে একদিকে যেমন ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ ঘটানো হয়, অন্যদিকে এটি একটি সাংস্কৃতিক উৎসব হিসাবেও সমাদৃত। সারা বছর ধরে অপেক্ষার পর, পুজোর দিনগুলি আসে মানুষের মুখে হাসি, আনন্দ ও উল্লাস নিয়ে।
সুতরাং, এবার স্মার্টফোন হাতে থাকলেই হবে। যেখানেই থাকুন, জগদ্ধাত্রী পুজোর এই ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা আপনার জন্য একটি ক্লিক দূরে। আসুন, এই নতুন ধারায় যোগ দিয়ে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিই।