ভবানীপুরে রাস্তায় জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

ভবানীপুরে রাস্তায় জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কলকাতার ভবানীপুর এলাকায় টানা বৃষ্টির পর ভয়ঙ্কর এক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ২৫ বছর বয়সী যুবক সৌরভপ্রসাদ গুপ্তের। শুক্রবার সন্ধ্যায় জমা জলের মধ্যে ঝুলন্ত…

October 26, 2024
0 min read

ভবানীপুরে রাস্তায় জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট

কলকাতার ভবানীপুর এলাকায় টানা বৃষ্টির পর ভয়ঙ্কর এক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ২৫ বছর বয়সী যুবক সৌরভপ্রসাদ গুপ্তের। শুক্রবার সন্ধ্যায় জমা জলের মধ্যে ঝুলন্ত বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসায় প্রাণ হারান তিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, এবং বিষয়টির তদন্তে নেমেছে পুলিশ। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসিও ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তাদের তরফ থেকেও অভিযোগ দায়ের করতে পারে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

ঘূর্ণিঝড় ‘ডেনা’র প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকে কলকাতায় বিরতিহীনভাবে বৃষ্টি হতে থাকে, এবং এর ফলে শহরের অনেক জায়গায় রাস্তাগুলি জলমগ্ন হয়ে যায়। দুপুরের পর থেকে ভবানীপুরের জাস্টিস দ্বারকানাথ রোডেও জল জমে ছিল, যেখানে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময়ে সৌরভ, যিনি বিহারের বাসিন্দা হলেও কলকাতাতেই বাস করতেন এবং পরিবারের সঙ্গে ভুজিয়ার দোকান চালাতেন, দোকানে যাওয়ার সময় জলমগ্ন রাস্তায় হাঁটছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রেলিং থেকে ঝুলন্ত একটি বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসতেই তিনি জলে পড়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বাঁশের সাহায্যে তাকে ঝুলন্ত তার থেকে দূরে সরিয়ে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কিভাবে আসল এই ঝুলন্ত বিদ্যুতের তার?

দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কলকাতা পৌরসভার মেয়র পারিষদ (আলো) সন্দীপরঞ্জন বক্সী জানিয়েছেন, “যেখানে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে পুরসভার কোনো বিদ্যুতের খুঁটি ছিল না। বরং দেখা গেছে, একটি বাড়ির মিটার বক্স থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে আলো জ্বালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ এবং সিইএসসি এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছে।” পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই বাড়ির মালিক বেআইনি সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছিলেন, এবং সেই থেকেই ঝুলন্ত তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ রাস্তায় জমা জল পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ভবানীপুরের সাংসদ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি মন্তব্য করেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যা এড়ানো সম্ভব ছিল। তার প্রশাসন জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের শাসন ব্যবস্থার অবহেলা ও তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির কারণে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। সুকান্তের এই মন্তব্যের পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “দুর্ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করছে বিজেপি।”

পুলিশি তদন্ত এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

ভবানীপুর থানার পুলিশ ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যে মামলা রুজু করেছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। বিদ্যুতের তারে বেআইনি সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসিও তাদের আলাদা তদন্ত চালাচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রমাণের ভিত্তিতে তারা ওই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে পারে।

কলকাতা পৌরসভার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিদ্যুতের খুঁটিগুলি নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবুও জল জমে থাকা রাস্তায় ঝুলন্ত তার এবং বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব আরও একবার সামনে এসেছে।

এই ঘটনা ভবানীপুর এলাকাবাসীকে ভীত করেছে। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে জলমগ্ন রাস্তায় হাঁটার সময় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে অনেকেই মনে করছেন।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *