মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আহ্বান: অনশনকারীদের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা?

মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আহ্বান জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের আবহে শনিবার ধর্মতলার অনশনমঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন আন্দোলনকারীরা। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন।…

October 19, 2024
0 min read

মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আহ্বান

জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের আবহে শনিবার ধর্মতলার অনশনমঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন আন্দোলনকারীরা। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের অনুরোধ করেন অনশন তুলে নিতে এবং জানান যে, স্বাস্থ্যসচিবের অপসারণ ছাড়া আন্দোলনকারীদের সব দাবির সঙ্গেই তিনি সহমত।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনশন তুলতে অনুরোধ করছি। আলোচনায় বসো। প্রায় সব ক’টা দাবিই পূরণ হয়েছে। দয়া করে অনশন প্রত্যাহার করো।” এরপর, সোমবার বিকাল ৫টায় নবান্নে আন্দোলনকারীদের জন্য একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। অনশনকারীরা জানিয়েছে, তারা বৈঠকে যাবে, তবে অনশন চলবে।

গত সপ্তাহে জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থান থেকে যে আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল, তা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নির্দিষ্টভাবে স্বাস্থ্যসচিবের অপসারণ দাবি জানাচ্ছিলেন। এর ফলে প্রশাসন চাপের মুখে পড়ে এবং মুখ্যসচিবসহ অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা অনশনমঞ্চে যান। সেখানে তাঁরা কথা বলার পর মুখ্যমন্ত্রীর ফোনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর

অনশনকারীদের মধ্যে কিছু অসুস্থ ডাক্তারকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। অনশনকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি অভিযোগ জানাতে শুরু করেন যে, তিনি কেন তাঁদের প্রতি মানবিক হতে আসছেন না। এর মধ্যে, অনশনকারী সায়ন্তনী ঘোষ বলেন, “আমরা তো তাঁর সন্তানসম। কেন এত নিষ্ঠুরতা?”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি মানবিকতার পক্ষে। আমি চাই, তোমাদের সমস্যাগুলো আমি দেখি।” তিনি জানান যে, হাসপাতালগুলিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত ঘটছে।

মুখ্যমন্ত্রী একাধিক আশ্বাস দেন, যেমন মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করানো এবং হাসপাতালের উন্নয়নে ১১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ। তিনি আরও বলেন, “আদালতে মামলা চলছে। সুবিচার মিলবে।”

প্রসঙ্গত, আন্দোলনকারীদের ১০ দফা দাবি নিয়ে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বৈঠকে ১০ জনের বেশি প্রতিনিধি যেন না যায় এবং তারা যেন সময়মতো উপস্থিত হয়। আন্দোলনকারীরা বৈঠকে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানালেও তাদের অবস্থান পরিবর্তন হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

অতএব, মুখ্যমন্ত্রীর সাথে এই ফোনালাপ এবং আসন্ন বৈঠক কি করে আন্দোলনকারীদের অনশন প্রত্যাহারের দিকে নিয়ে যাবে, তা দেখার বিষয়।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *