৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের আসল ছবি লুকিয়ে এই রিপোর্টেই!
রাজ্যের আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে একসঙ্গে ২৮টি সিএজি (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) রিপোর্ট পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শনিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, এই রিপোর্টগুলিই স্পষ্ট করে দেবে কেন রাজ্যের আর্থিক দায় বেড়ে প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
স্বপনের কথায়, “এই রিপোর্টগুলো মন দিয়ে পড়লেই বুঝতে পারবেন, কেন রাজ্যের ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে।” সরকারের দাবি, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া এই অডিট রিপোর্টগুলিতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের একাধিক অসঙ্গতি, অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্বলতার উল্লেখ রয়েছে। সেই কারণেই বিশেষ অধিবেশনে এগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় আমপান দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে সিএজি রিপোর্ট প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পর শনিবার অর্থমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, মোট ২৮টি রিপোর্ট বিধানসভার টেবিলে রাখা হবে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বপন দাশগুপ্ত সিএজি-র সাংবিধানিক গুরুত্বও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করার দায়িত্ব এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের। তাই প্রতিটি সরকারেরই নিয়মিত সিএজি রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা উচিত। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে পূর্বতন সরকার সেই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেনি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট বিধানসভায় আনা হয়নি।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিশেষ অধিবেশনে আলোচনার জন্য যে ২৮টি রিপোর্ট আনা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে রাজ্য সরকারের আর্থিক নিরীক্ষা (ফিনান্স অডিট), পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের ব্যয় সংক্রান্ত রিপোর্ট, স্বাস্থ্য দফতরের অডিট, ভূমি দফতরের হিসাব-নিকাশ এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের ব্যয়ের বিশদ মূল্যায়ন।
সরকারের দাবি, এই রিপোর্টগুলি প্রকাশ্যে এলে সরকারি অর্থ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিপুল ঋণের কারণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোথায় কোথায় ঘাটতি ছিল, তা নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা সম্ভব হবে।
বিশেষ অধিবেশনে এই রিপোর্টগুলি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যে তুঙ্গে উঠবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। কারণ, শাসক পক্ষের দাবি— এই নথিগুলিই পূর্বতন সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র সামনে আনবে। অন্যদিকে বিরোধীদের নজর থাকবে রিপোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং সরকারের ব্যাখ্যার উপর।
\
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?