শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম!
বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী থাকল ফুটবলপ্রেমীরা। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বেলজিয়াম শেষ মুহূর্তের দুরন্ত লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে দিল সেনেগালকে। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে ইউরি টিয়েলেম্যানসের পেনাল্টি গোলেই নিশ্চিত হয় বেলজিয়ামের শেষ ষোলোয় জায়গা। অন্যদিকে, দারুণ ফুটবল খেলেও নিজেদের ভুলের খেসারত দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হল আফ্রিকার দলটিকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল সেনেগাল। সাদিয়ো মানে, ইসমাইলা সার এবং হাবিব দিয়ারাদের গতিতে বারবার চাপে পড়ে যায় বেলজিয়ামের রক্ষণ। ২৪ মিনিটে সারের প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে দেন দিয়ারা। গোল হজম করার পরও বেলজিয়ামের খেলায় তেমন কোনও তাগিদ দেখা যায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার। ডিফেন্স থেকে আসা লম্বা বল নিয়ন্ত্রণে এনে দুর্দান্ত শটে গোল করেন তিনি। ৫১ মিনিটে ২-০ এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল, সেনেগাল সহজেই ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোয় পৌঁছে যাবে।
চাপে পড়ে একের পর এক পরিবর্তন করেন বেলজিয়ামের কোচ। রোমেলু লুকাকুকে নামানোর পর আক্রমণে কিছুটা গতি আসে। যদিও মাঝমাঠে ছন্দের অভাব ছিল স্পষ্ট। এমনকি ম্যাচের মধ্যেই অধিনায়ক টিয়েলেম্যানস ও লিয়োনার্দো ট্রসার্ডের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়, যা দলের হতাশারই প্রতিফলন ছিল।
সবকিছু বদলে যায় শেষ পাঁচ মিনিটে। ৮৬ মিনিটে ট্রসার্ডের ক্রস থেকে লুকাকু গোল করে ব্যবধান কমান। তিন মিনিট পর আবার ট্রসার্ডের আরেকটি ক্রসে গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নিয়ে হেডে সমতা ফেরান টিয়েলেম্যানস। দুই গোলেই সেনেগালের রক্ষণভাগের ভুল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অতিরিক্ত সময়েও গোলের সুযোগ পেয়েছিল সেনেগাল। কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্টের মাশুল দিতে হয় তাদের। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে বক্সের মধ্যে টিয়েলেম্যানসকে ফাউল করেন লামিন কামারা। প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে দিলেও পরে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। প্রবল চাপের মধ্যেও স্পট-কিক থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন অধিনায়ক টিয়েলেম্যানস।
এই জয়ে বেলজিয়াম নকআউট পর্বে পৌঁছে গেলেও তাদের পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচে পিছিয়ে থাকা, রক্ষণে অসংগতি এবং মাঝমাঠে ছন্দহীনতা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগ বাড়াবে। অন্যদিকে, সেনেগাল দাপুটে ফুটবল খেলেও শেষ মুহূর্তের ভুলে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে বিদায় নিল। সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং শেষ দিকে মনোযোগ হারানোই শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দিল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?