৭১-এর রক্তক্ষয়ী ইতিহাসে ন্যায়বিচারের দাবি—পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে হবে!

পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে হবে! ১৯৭১ সালের ভয়াল সেই কালরাত্রি আজও অম্লান বাংলাদেশিদের হৃদয়ে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংস গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট—সবকিছুর স্মৃতি আজও কাঁদায় জাতিকে। সেই রক্তমাখা অতীতের জন্য এবার স্পষ্ট…

April 18, 2025
1 min read

পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে হবে!

১৯৭১ সালের ভয়াল সেই কালরাত্রি আজও অম্লান বাংলাদেশিদের হৃদয়ে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংস গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট—সবকিছুর স্মৃতি আজও কাঁদায় জাতিকে। সেই রক্তমাখা অতীতের জন্য এবার স্পষ্ট কণ্ঠে বিচার চাইল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে, পাকিস্তানের কাছে ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তোলে বাংলাদেশ। এই বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের বিদেশ সচিব মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন ও পাকিস্তানের বিদেশ সচিব আমনা বালোচ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক ও ন্যায়সংগত দাবি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়।

বিদেশ সচিব জসীমউদ্দিন জানান, মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার টেবিলে ছিল—
১) ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা প্রার্থনা
২) বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন
৩) ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রেরিত আন্তর্জাতিক ত্রাণের অর্থ হস্তান্তর

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমল থেকেই পাকিস্তানের নৃশংসতার বিচারের দাবি উঠেছে বারবার। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার সরকারও বারংবার পাকিস্তানের ন্যায়বিচারহীন অবস্থানের সমালোচনা করে এসেছে। এবার সেই ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা পূরণের দাবি জানাল ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

বৈঠকের পাশাপাশি আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক উঠে এসেছে—দীর্ঘ ১৫ বছর পর দুই দেশের মধ্যে বিদেশ সচিব পর্যায়ে এই প্রথম সরাসরি আলোচনা হলো। এতদিনে বরফ গলা সুরে দুই দেশ আবার সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। এমনকি পাকিস্তান থেকে খাদ্যশস্য আমদানির মতো বাণিজ্যিক লেনদেনও শুরু করেছে বাংলাদেশ।

তবে এই নরম সুরের মাঝেও ইতিহাসকে বিস্মৃত হতে দিচ্ছে না বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের সেই গণহত্যার ন্যায়বিচার ও জাতিগত মর্যাদার প্রশ্নে আবারও সোজাসাপটা অবস্থান নিল ঢাকা। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সময়কালের মতোই এবারও ক্ষমার শব্দটিতে মৌন ইসলামাবাদ। অথচ, এই নীরবতা প্রতিনিয়ত ক্ষতচিহ্নকে গভীর করে তোলে।

চলতি মাসের শেষ দিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এই সফরের মধ্য দিয়েই আরও জোরালোভাবে ঐতিহাসিক অন্যায়ের দায়ভার স্মরণ করিয়ে দিতে চায় বাংলাদেশ।

জাতির যন্ত্রণার ইতিহাস কখনও বিস্মৃত হয় না। আর তাই, শুধু বন্ধুত্ব নয়, ন্যায়ের স্বীকৃতিও চায় বাংলা। পাকিস্তানের ক্ষমা প্রার্থনাই হতে পারে সেই নিরাময়ের প্রথম ধাপ।

জয়ী সিংহ ফতেহ্‌সিন! ৮ বছরের অপেক্ষার পর বাবা হলেন জাহির খান, খুশির হাওয়া লখনউ শিবিরে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *