৫ হাজার টাকার পুঁজি থেকে দেশের নানা প্রান্তের গয়নার ঠিকানা!
মাত্র পাঁচ হাজার টাকা হাতে নিয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা। ফুটপাথে ছোট্ট একটি টেবিল সাজিয়ে গয়না বিক্রি করতেন তিনি। আজ সেই উদ্যোগই পরিণত হয়েছে এমন এক পরিচিত ব্র্যান্ডে, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের তৈরি অভিনব গয়নার সম্ভার এক ছাদের তলায় পাওয়া যায়। এই লড়াইয়ের নেপথ্যের মানুষ হাওড়ার নন্দিনী গুপ্ত।
ছোটবেলা থেকেই নৃত্যচর্চার সঙ্গে বড় হয়েছেন নন্দিনী। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যে পোশাক, অলঙ্কার ও সাজসজ্জার গুরুত্ব তাঁর কাছে খুব ছোট বয়স থেকেই স্পষ্ট ছিল। গয়নার প্রতি সেই আকর্ষণই পরে তাঁর জীবনের পেশা হয়ে ওঠে।
তবে পথটা মোটেই সহজ ছিল না। বেনারসি পরিবারে জন্ম হলেও নন্দিনীর বেড়ে ওঠা কলকাতায়। শৈশব কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। পারিবারিক অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে মা ও দাদার সঙ্গে আলাদা হয়ে নতুন জীবন শুরু করতে হয়েছিল তাঁকে। সংসারের হাল ধরতে মায়ের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন কাজ করেছেন নন্দিনী।
পোশাক ডিজাইনার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কিন্তু নিজের হাতে গয়না বানিয়ে পরার অভ্যাস থেকেই নতুন ভাবনার জন্ম। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন গয়নার ব্যবসা।
প্রথমদিকে বড়বাজার থেকে গয়না কিনে এনে ফুটপাথে বিক্রি করতেন। ধীরে ধীরে ক্রেতাদের আস্থা বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে ব্যবসার পরিধিও বিস্তৃত হয়। বর্তমানে তাঁর ব্র্যান্ড ‘ন্যাঞ্জি’স রেয়ার ফাইন্ডস’-এর মাধ্যমে দিল্লি, জয়পুর, বারাণসী, দক্ষিণ ভারত, ওড়িশাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেছে আনা গয়না বিক্রি করেন। পাশাপাশি নিজেও কিছু বিশেষ নকশার অলঙ্কার তৈরি করেন।
তাঁর সংগ্রহে রয়েছে সিলভার রিপ্লিকা জুয়েলারি, আফগানি, তিব্বতি, পিতল, স্টিলসহ নানা ধরনের ধাতুর গয়না। দুল, হার, আংটি, মাথার অলঙ্কার, পায়ের নূপুর— বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের জন্যই তাঁর ব্র্যান্ড জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বর্তমানে ফুটপাথের দোকানের পাশাপাশি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও ব্যবসা পরিচালনা করছেন নন্দিনী। তবু নিজের শিকড় ভুলে যাননি। তাঁর বিশ্বাস, ব্যবসার সাফল্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি তাঁর মা।
নন্দিনীর কথায়, শৈশবের কষ্ট নিয়ে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই। বরং প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি তাঁকে নতুন শিক্ষা দিয়েছে। তাঁর মতে, শুধু পরিশ্রম নয়, মায়ের জীবনদর্শন, মূল্যবোধ এবং মানসিক শক্তিই তাঁকে আজকের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
ফুটপাথ থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ বহু মানুষের কাছে উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা। সীমিত পুঁজি, কঠিন বাস্তবতা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি— এই তিনের সমন্বয়েই নন্দিনী গুপ্ত গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের ঠিকানা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?