কেন ১৬ অগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হচ্ছে কলকাতার নেহরু চিলড্রেন মিউজ়িয়াম!
প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে কলকাতার শিশু-কিশোরদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ ছিল নেহরু চিলড্রেন মিউজ়িয়াম। মাটির পুতুলে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি, বিশ্বের নানা দেশের পুতুলের সংগ্রহ, বিরল গণেশ গ্যালারি এবং শিশুদের সৃজনশীল প্রশিক্ষণের জন্য পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি ১৬ অগস্ট ২০২৬ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হতে চলেছে। মূল কারণ, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থের অভাব।
প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে কলকাতার শিশু-কিশোরদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ ছিল নেহরু চিলড্রেন মিউজ়িয়াম। মাটির পুতুলে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি, বিশ্বের নানা দেশের পুতুলের সংগ্রহ, বিরল গণেশ গ্যালারি এবং শিশুদের সৃজনশীল প্রশিক্ষণের জন্য পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি ১৬ অগস্ট ২০২৬ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হতে চলেছে। মূল কারণ, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থের অভাব।
১৯৭২ সালের ১৪ নভেম্বর শিশু দিবসে রবীন্দ্র সদনের কাছে এই সংগ্রহশালার উদ্বোধন হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাতা যুগল শ্রীমলের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই জাদুঘর খুব অল্প সময়েই শহরের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেই সময় টেলিভিশনের প্রসার না থাকায় পুতুলের মাধ্যমে রামায়ণ ও মহাভারতের দৃশ্য তুলে ধরা ছিল শিশুদের কাছে এক অভিনব অভিজ্ঞতা।
বর্তমানে এই জাদুঘরে রয়েছে ৯২টি দেশের পুতুলের সংগ্রহ। আলাদা ডলস গ্যালারিতে রয়েছে ৩৭টি দেশের প্রায় ১,১০০টি বিদেশি পুতুল। এছাড়াও ৩০০-রও বেশি গণেশ মূর্তি নিয়ে তৈরি গণেশ গ্যালারি দর্শকদের অন্যতম আকর্ষণ। শুধু প্রদর্শনীই নয়, জওহর শিশু ভবনে দীর্ঘদিন ধরে ছবি আঁকা, সৃজনশীল নৃত্য ও আবৃত্তির প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়ে আসছে। উদ্বোধনের পর থেকে ১০ কোটিরও বেশি দর্শক এই জাদুঘরে এসেছেন বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।
তবে কয়েক বছর আগে দমকল কর্তৃপক্ষ সংগ্রহশালার অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ও ফায়ার এক্সিট তৈরি হলেও, ছয়তলা ভবনের প্রতিটি গ্যালারিতে আধুনিক স্প্রিংকলার ব্যবস্থা বসাতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। সেই অর্থ জোগাড় করতে না পারায় নিরাপত্তার স্বার্থেই জাদুঘর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের আয়ের বড় অংশই কর্মীদের বেতন এবং শিশুদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যয় হয়। কোভিড-পরবর্তী সময়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৯০০ জন শিক্ষার্থীকে অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই অফলাইন ক্লাস আগেই বন্ধ করা হয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। এই সংকট কাটাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী এবং পর্যটনমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে।
১৬ অগস্ট পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে আগে থেকে নির্ধারিত অনুষ্ঠান চলবে। তারপরই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী পুতুল সংগ্রহশালার দরজা। এর ফলে শুধু হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পুতুলের ভবিষ্যৎ নয়, অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জাদুঘরের ৩৩ জন কর্মীও।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।