৪২ বছরে কেন পতিত ‘কাঁটা লাগা’ ফেম শেফালি?
বলিউডের ‘কাঁটা লাগা’ ভিডিও নিয়ে রাতারাতি খ্যাতি পাওয়া শেফালি জরিওয়ালা (৪২) গত ২৭ জুন গভীর রাতে মুম্বইয়ের আন্ধেরি অঞ্চলে নিজ বাড়িতে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হন। বেলিভিউ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের সমস্যা সন্দেহ করা হলেও, পুলিশ দেহের সর্বোচ্চ ময়নাতদন্ত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করতে পারছে না ।
তবে মৃত্যু সংক্রান্ত গুজবে আরও এক কৌতূহলপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে সংবাদচক্রে জায়গা করে নেয়—শেষ ৫‑৬ বছর ধরে ‘অ্যান্টি-এজিং’ বা বার্ধ্যবস্থার বিরুদ্ধে ট্রিটমেন্ট করাচ্ছিলেন কি শেফালি? একটি সূত্র জানাচ্ছে, তিনি নিয়মিত ভিটামিন সি ও গ্লুটাথায়োন নির্ভর এক ধরনের ডিটক্স পরিকল্পনা মেনে চলছিলেন ।
চিতা রোধ, ত্বক হালকা-মসৃণ করতে গ্লুটাথায়োনের ব্যবহার সচরাচর দেখা যায়। তবে প্লাস্টিক সার্জন সৌরদীপ গুপ্ত সতর্ক করেছেন, ‘গ্লুটাথায়োন খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে—যেমন অ্যালার্জি, স্টিভেন্স-জনসন সিন্ড্রোম, কিডনি সমস্যা, এমনকি অ্যাজমার মতো শ্বাসকষ্টও হতে পারে। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে’ ।
দ্রুত নিরাময় বা বার্ধ্যত্ব রোধের লোভে অনেকেই অনির্দিষ্টভাবে এসব ট্রিটমেন্টে ঝুঁকে পড়েন। তবে শেফালির চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি কোনও হার্ট বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ে ভুগতেন না, এবং ডিফিনিটলি হার্ট মেডিসিনও খেতেন না । তাই মৃত্যুপুর্বে অ্যান্টি-এজিংয়ের কোন সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আক্ষরিক অর্থেই ‘বয়স উল্টে যাওয়ার’ এই প্রচেষ্টা মাঝে মাঝেই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়ু বাড়াতে গিয়ে অজ্ঞাত বা অনির্দিষ্ট ডোজে গ্লুটাথায়োনের ব্যবহার শরীরের স্বাভাবিক রাসায়নিক ভারসাম্যকে ভেঙে দিতে পারে। পাশাপাশি এতে রক্তের ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভারসাম্য ও শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতায় বাধা দেখা দিতে পারে—যা দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমনকি হৃৎসংক্রান্ত জটিলতাও ডেকে আনতে পারে।
শেফালির আকস্মিক মৃত্যু যেমন বিনোদন জগতে শোকের সুর তোলে, তেমনই এটি স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রসঙ্গেও সতর্কবার্তা দেয়। কেবল ডাক্তারি পরামর্শ নয়, যে কোনো ট্রিটমেন্টের পেছনে হওয়া বিজ্ঞানের উত্স, নিরাপদ ডোজ ও মানসম্মত পর্যবেক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তাও যেন আরেকবার স্বীকৃতি পাচ্ছে এই মর্মান্তিক ঘটনায়।
পরবর্তী সময়ে কুপার হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও জেনে নেওয়া যাবে। তার আগ পর্যন্ত তবে শেফালি জরিওয়ালার মতো উচ্চ-প্রোফাইলে অ্যান্টি-এজিং প্ল্যান নেওয়ার পেছনে থাকা আকাঙ্ক্ষা এবং তার অসম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে ধারণা তীব্র হচ্ছে। সেটা কি এক ফ্যাশন, নাকি জীবনকাল বৃদ্ধির আধুনিক কাল্ট? সময়ই বলে দেবে।