৩৫-এই থেমে গেল লড়াই: মোহনবাগানের আই লিগ–জয়ী সুখেন দে আর নেই

মোহনবাগানের আই লিগ–জয়ী সুখেন দে আর নেই! সবুজ-মেরুন শিবিরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন প্রাক্তন ফুটবলার Sukhen De। এক সময়ের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার…

December 27, 2025
1 min read

মোহনবাগানের আই লিগ–জয়ী সুখেন দে আর নেই!

সবুজ-মেরুন শিবিরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন প্রাক্তন ফুটবলার Sukhen De। এক সময়ের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার সুখেন মোহনবাগানের হয়ে আই লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন—আর সেই স্মৃতিই আজ ভাসছে সতীর্থ, কোচ আর সমর্থকদের চোখে।

শুক্রবার কর্মস্থল রেলের দফতরে কাজ করার সময় আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন সুখেন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। তরুণ বয়সে এমন আকস্মিক প্রস্থানে হতবাক বাংলার ফুটবল মহল।

সুখেনের ফুটবলযাত্রা শুরু হয়েছিল ধীরে, কিন্তু দৃঢ়তায়। ২০১২ থেকে ২০১৪—এই তিন মরসুম তিনি খেলেছিলেন ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে। নিরলস পরিশ্রম আর মাঠে দায়িত্ববোধের জন্য কোচেদের নজরে পড়ে যান তিনি। সেই ধারাবাহিকতার পুরস্কার আসে ২০১৫ সালে, যখন তিনি যোগ দেন Mohun Bagan-এ।

সবুজ-মেরুন জার্সিতে প্রথম বছরই ইতিহাস। সুখেন ছিলেন সেই দলের অংশ, যে দলটি জিতে নেয় I-League। ডিফেন্সে তাঁর অবদান ছিল নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ—ঠিক সেই ধরনের ফুটবলার, যাঁদের কাজ অনেক সময় চোখে পড়ে না, কিন্তু দলের সাফল্যে যাঁদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

সেই মরসুমের একটি ম্যাচ আজও মনে আছে ফুটবলপ্রেমীদের। স্পোর্টিং ক্লাব দ্য গোয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের তারকা স্ট্রাইকার ওডাফা ওকোলিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিলেন সুখেন। উচ্চতায় বড় না হলেও অবস্থানজ্ঞান, ট্যাকলিং আর একাগ্রতায় তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন—ডিফেন্স মানে শুধু শক্তি নয়, মাথার খেলা।

মাঠের বাইরে সুখেন ছিলেন শান্ত, পরিশ্রমী মানুষ। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে চাকরির সূত্রে রেলে যুক্ত হয়েছিলেন। ফুটবল ছাড়লেও খেলাটার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি—বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পুরনো ম্যাচের স্মৃতিচারণ, সবুজ-মেরুন নিয়ে গর্ব ছিল অটুট।

তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের ফুটবল সংস্থার কর্তারা। আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত এক বার্তায় বলেন, “সুখেনের মতো পরিশ্রমী ও ভদ্র ফুটবলার খুব কমই দেখা যায়। বাংলার ফুটবলের জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি।”

৩৫ বছর বয়সে জীবন থেমে যাওয়া মানে শুধু একটি কেরিয়ারের ইতি নয়—অগণিত স্বপ্ন, পরিকল্পনা আর না-বলা গল্পেরও পরিসমাপ্তি। সবুজ-মেরুনের ইতিহাসে সুখেন দে থাকবেন এক নীরব যোদ্ধা হিসেবে—যাঁর কাজ কথা বলত মাঠে, আর যাঁর স্মৃতি থেকে যাবে ফুটবলের হৃদয়ে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *