মোহনবাগানের ‘অভিভাবক’ টুটু বসু আর নেই!
ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ, Swapan Sadhan Bose আর নেই। মঙ্গলবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে কলকাতার ময়দানজুড়ে।
সোমবার সন্ধ্যায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন টুটু বসু। দ্রুত তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভেন্টিলেশনেও রাখা হয়েছিল তাঁকে। মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি Kalyan Chaubey। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-ও তাঁর অবস্থার খোঁজ নিয়েছিলেন।
মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে টুটু বসুর সম্পর্ক ছিল আত্মিক। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি ক্লাব প্রশাসনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত মোহনবাগানের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সভাপতির পদেও বহু বছর ছিলেন তিনি। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর পর ফের সচিব হন। এরপর আবার দু’দফায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত বছর নির্বাচনের আগে সক্রিয় প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
তাঁর নেতৃত্বেই মোহনবাগান একাধিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল শিল্পপতি Sanjiv Goenka-র হাতে ক্লাবের ফুটবল বিভাগের দায়িত্ব তুলে দেওয়া। সেই সময় ক্লাবের নামের সঙ্গে ‘এটিকে’ যুক্ত হওয়ায় প্রবল বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।
তবে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, ভারতীয় ফুটবলে বিদেশি ফুটবলার আনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল টুটু বসুর। তাঁর উদ্যোগেই মোহনবাগানে প্রথম বিদেশি ফুটবলার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার Chima Okorie। সেই সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।
ফুটবল প্রশাসনের বাইরেও তাঁর পরিচয় ছিল বহুমাত্রিক। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী এবং সংবাদপত্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
শেষ কয়েক বছর শারীরিক সমস্যার কারণে সক্রিয় ভূমিকা থেকে দূরে থাকলেও, মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে টুটু বসুই ছিলেন ক্লাবের অন্যতম অভিভাবক। হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল তাঁর। তবু সবুজ-মেরুনের প্রতি আবেগ কখনও কমেনি।
গত বছর মোহনবাগান দিবসে তাঁকে ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন Sourav Ganguly, Bhaichung Bhutia, I. M. Vijayan, Jose Barreto-সহ একাধিক তারকা। সেই সম্মান যেন তাঁর দীর্ঘ ফুটবল-জীবনের স্বীকৃতিই হয়ে উঠেছিল।
টুটু বসুর প্রয়াণে শুধু মোহনবাগান নয়, ভারতীয় ফুটবল হারাল এক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ও আবেগঘন ব্যক্তিত্বকে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা