২৫ মিনিটের বজ্রাঘাত: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল ভারত, অন্তত ৭০ জঙ্গির মৃত্যু

‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল ভারত! মাত্র ২৫ মিনিট। এর মধ্যেই একের পর এক আঘাতে কেঁপে উঠল পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের অন্তত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি। ভারতীয় সেনার…

May 7, 2025
1 min read

‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল ভারত!

মাত্র ২৫ মিনিট। এর মধ্যেই একের পর এক আঘাতে কেঁপে উঠল পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের অন্তত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি। ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের এই দ্রুত ও নিখুঁত অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৭০ জন জঙ্গি—এমনটাই দাবি করেছে সরকারি সূত্র। রাত ১টা ৫ মিনিটে শুরু হয়েছিল এই অভিযান, আর শেষ হয়ে যায় রাত দেড়টার আগেই।

এই অভিযানে ভারতীয় সেনা মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে ২৪ বার নিশানা বানায় জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে। আধিকারিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল জইশ-ই-মহম্মদ ও লশকর-এ-তইবার মূল ঘাঁটিগুলি, যেখান থেকে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের বহাওয়ালপুর, মুরিদকে, সিয়ালকোট এবং কোটলি শহর এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফ্‌ফরাবাদ, গুলপুর, ভীমবের, বাগ ও চাক আমরু—এই সব এলাকাতেই আছড়ে পড়ে ভারতীয় বাহিনীর প্রহার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অপারেশনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল সঠিক গোয়েন্দা তথ্য এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রব্যবহার। স্ক্যাল্প এবং হ্যামার মিসাইলের মতো উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করা হয় অভিযানে। সূত্র জানায়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই এই সব জঙ্গি ঘাঁটির উপর নজর রাখছিল। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তা সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারপরই শুরু হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।

সরকারি সূত্র দাবি করছে, বহাওয়ালপুরের উপকণ্ঠে অবস্থিত জইশ-ই-মহম্মদের মূল প্রশিক্ষণকেন্দ্রও ধ্বংস হয়েছে এই হামলায়। মনে করা হচ্ছে, এই ঘাঁটি থেকেই ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার ছক কষা হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজ়হারের পরিবারের অন্তত ১০ জন সদস্যও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

মুরিদকে শহর, যা লশকর-এ-তইবার অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানেও ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শহরেই থাকত ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদ।

যদিও ভারত সরকার বা সেনার তরফে এই অভিযানের ব্যাপারে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির দাবি এসেছে। পাক সেনার মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধরি জানিয়েছেন, ভারতের হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শিশু ও মহিলাও রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, ভারতের কোনও যুদ্ধবিমানকে পাক আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে দেওয়া হয়নি।

এই অভিযান একদিকে যেমন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের কড়া অবস্থানকে সামনে এনেছে, তেমনই সেনার নির্ভুল পরিকল্পনা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার নিদর্শন হয়ে উঠেছে। সীমান্তের ওপারে এই সাহসী ও সুপরিকল্পিত প্রত্যাঘাত ভারত যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনও ছাড় দেবে না, তা ফের একবার প্রমাণ করল।

“এভাবে তো পাকিস্তানের সঙ্গেই করি!”—যমুনা-সিন্ধুর জল নিয়ে পাঞ্জাব-হরিয়ানার তীব্র দ্বন্দ্বে বিস্মিত হাই কোর্ট

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *