২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে, মমতাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে শহিদ পরিবারগুলির জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে! প্রায় ১২ বছর ধরে প্রকাশ্যে না-আসা ২১ জুলাইয়ের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট অবশেষে বিধানসভায় পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে গুলিকাণ্ডের…

July 20, 2026
1 min read

২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে!

প্রায় ১২ বছর ধরে প্রকাশ্যে না-আসা ২১ জুলাইয়ের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট অবশেষে বিধানসভায় পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে গুলিকাণ্ডের তদন্তে গঠিত বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এই রিপোর্ট দীর্ঘদিন ধরে গোপন ছিল। সোমবার তা সামনে এনে তৎকালীন সরকারের ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২১ জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “২১ জুলাইয়ের আবেগ এবং শহিদদের রক্তকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই ব্যক্তিগত সম্পদ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়েছেন, অথচ শহিদ পরিবারগুলি আজও অবহেলিত।” একই সঙ্গে তিনি শহিদ পরিবারগুলির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণাও করেন।

শুভেন্দু জানান, কমিশনের রিপোর্টে মোট ৪৪ জনকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, সোমেন্দ্রনাথ মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য, মদন মিত্র, সৌগত রায়-সহ বহু রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। তবে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সেই তালিকায় ছিল না। এই বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, কমিশনের ডাকা রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে একমাত্র পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষ্য দিতে যাননি। শুভেন্দু তাঁর পুরনো বক্তব্যও উদ্ধৃত করেন, যেখানে পঙ্কজ অভিযোগ করেছিলেন যে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দায়মুক্ত রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভাতেও স্থান দেওয়া হয়।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২১ জুলাইয়ের ঘটনার কোনও নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত হয়নি। আইন অনুযায়ী যে প্রশাসনিক তদন্ত হওয়ার কথা ছিল, তা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি বলেই রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কমিশনার তুষারকান্তি তালুকদারের রিপোর্টেও অসংগতি ছিল বলে কমিশনের মত। এমনকি কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল, সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।

রিপোর্টে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কিছু ব্যক্তিকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল গায়েব করা হয়েছিল। কমিশনের মতে, মহাকরণ থেকে অনেক দূরে—মেয়ো রোড, রেড রোড, ডোরিনা ক্রসিং এবং এসপ্ল্যানেড এলাকায় অবস্থানকারী বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর কোনও যৌক্তিকতা ছিল না। সেই পদক্ষেপ ছিল অপ্রয়োজনীয় এবং উস্কানিবিহীন।

দীর্ঘদিন চাপা থাকা এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে যেখানে সরকার শহিদ পরিবারগুলির প্রতি ন্যায়বিচারের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করছে। ফলে ২১ জুলাইয়ের ঘটনা আবারও বাংলার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *