জিনপিঙ-মোদী বৈঠকে পারস্পরিক আস্থার বার্তা
চিনের তিয়ানজিন শহরে রবিবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুখোমুখি বসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙ। ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল কৌতূহল। বৈঠকের একটি দু’মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিও নিজেই সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন মোদী, যেখানে তাঁকে হিন্দিতে নিজের বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে।
বৈঠকের শুরুতেই চিনা প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোদী বলেন, ‘‘গত বছর কাজ়ানে আমাদের বৈঠক ইতিবাচক দিশা দিয়েছে দুই দেশের সম্পর্কে। সীমান্তে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কাটিয়ে এখন ভারত-চিন সম্পর্ক স্থিতিশীলতার পথে। কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা আবার শুরু হয়েছে, চালু হয়েছে সরাসরি বিমান পরিষেবাও।’’ মোদীর কথায়, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু সীমান্ত রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ২০৮ কোটি মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে এই মৈত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান ও সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া গেলে তা শুধু ভারত ও চিন নয়, সমগ্র পৃথিবীর জন্য কল্যাণকর হবে।’’
মোদীর বক্তব্যের পরে চিনা ভাষায় অনুবাদ করা হয় তাঁর কথা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী, আপনার সঙ্গে আবার দেখা হল, খুব ভাল লাগছে। এই এসসিও সম্মেলনে আপনাকে স্বাগত। গত বছরের কাজ়ানের বৈঠক সফল হয়েছিল। এই পৃথিবী এখন বড় পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে। চিন ও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার দুই দেশ এবং সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্র। প্রতিবেশী হিসেবে একে অপরের পাশে থাকা আমাদের জন্য অপরিহার্য। ড্রাগন ও হাতির একজোট হওয়া এখন সময়ের দাবি।’’
প্রসঙ্গত, প্রায় ১০ মাস আগে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই রাষ্ট্রনেতা। তবে সাত বছর পরে চিন সফরে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, যা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষ করে আমেরিকার শুল্ক নীতির আগ্রাসনের সময় এই বৈঠককে অনেকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বার্তা বলে মনে করছেন।
চিনে অনুষ্ঠিত এই এসসিও প্লাস সম্মেলনে মোট ২০টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এসসিও ব্লকের ১০টি সদস্য দেশ হল চিন, ভারত, ইরান, কাজ়াখস্তান, কিরগিস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, বেলারুশ এবং উজ়বেকিস্তান। মোদী-জিনপিঙের এই বৈঠক নিছক কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও আস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়েও গভীরভাবে আলোচনা হয়। মোদীর বক্তব্যের মতোই, ভারত-চিন সম্পর্ক কেবল দুই দেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের শান্তি ও অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্প ভারত, এসসিও শীর্ষবৈঠকে নতুন কূটনৈতিক দিশা খুঁজছেন মোদী