১৮-তেই ‘আত্মা বিক্রি’?
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইটে ছবি দিয়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে আয় প্রায় ৯ কোটি টাকা! এমনই বিস্ফোরক দাবি করে নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছেন বিতর্কিত প্রভাবশালী তরুণী লিল টে, যাঁর আসল নাম ক্লেয়ার আইলিন কিউ হোপ।
গত ২৯ জুলাই তাঁর ১৮তম জন্মদিন। আইনত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাত ১২টা ১ মিনিটে ‘অনলিফ্যানস’ নামক সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফর্মে নিজের তোলা কিছু ছবি আপলোড করেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই ছবি মাত্র ২৪ ঘণ্টা ওয়েবসাইটে রাখেন, আর তারই মধ্যে অনুরাগীদের টিপস ও সাবস্ক্রিপশন থেকে আয় করেন ১০ লক্ষ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮.৭৫ কোটি টাকা।
লিল টে নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জানান, ‘‘অনলিফ্যানসে কম বয়সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছি। তিন ঘণ্টার মধ্যেই আয় করেছি ১০ লক্ষ ডলার!’’ সেই পোস্টের সঙ্গে অনলিফ্যানস প্ল্যাটফর্মের একটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছেন তিনি, যেখানে তাঁর আয়ের পরিমাণ স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে— ১,০২৪,২৯৮ ডলার।
ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসরণকারী সংখ্যা ৫১ লক্ষেরও বেশি। ফলে ছবিগুলি পোস্ট করার পরই অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। তাঁর এমন দাবিতে যেমন অনেকেই অভিভূত, তেমনই তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
একদল নেটিজেন লিলের এই পদক্ষেপকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উদাহরণ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই কটাক্ষ করেছেন তাঁর বয়স এবং বিষয় নির্বাচনের কারণে। এক জন মন্তব্য করেছেন, “১৮ বছরেই আত্মা বিক্রি করে দিল! ওর জন্য খারাপ লাগছে।” আরেক জন লিখেছেন, “এত সহজে যদি টাকা আয় হয়, তবে পড়াশোনা করে কী হবে! সমাজের অবনমন হচ্ছে।”
অনেকে আবার মনে করছেন, এই ঘটনা যুব সমাজকে ভুল পথে উৎসাহিত করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এমন কনটেন্ট তৈরির সিদ্ধান্ত কতটা সচেতন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, লিল টে কেবল নিজের শরীর নয়, নিজের ‘ব্যক্তিত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা’ও ব্যবহার করেছেন আয় করার জন্য।
এই প্রথম নয়, ক্লেয়ার বা লিল টে বরাবরই চর্চার কেন্দ্রে থেকেছেন। তাঁর নানা ভিডিও, বিতর্কিত বক্তব্য এবং সমাজমাধ্যমে উপস্থিতি তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে। তবে এই আয় এবং বিষয় নির্বাচনের কারণে তিনি এক নতুন বিতর্কের মুখে পড়লেন।
নেটদুনিয়ায় আজ যেখানে পরিচিতি মানেই সম্ভাব্য আয়, সেখানে লিলের মতো তরুণ প্রভাবশালীদের এই পদক্ষেপ নতুন এক বাস্তবতাকে সামনে আনছে। তবে এই ঘটনাটি যেমন একদিক থেকে স্বাধীনতার গল্প, তেমনি অন্যদিকে সমাজের মূল্যবোধ, শিক্ষা এবং কিশোরদের ওপর প্রভাবের প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে।
লিলের আয়ের দাবি সত্যি হোক বা না হোক, তাঁর জন্মদিনের রাত যে বহু মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
মায়ের কঠোর আদেশ থেকে শুরু করে ছোট ছোট টাস্ক, কন্যা পলককে বড় করতে যা করেছেন শ্বেতা তিওয়ারি