তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে আশাবাদী বিএনপি!
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। দুপুরে তাঁর বিমান অবতরণের কথা। এই প্রত্যাবর্তন শুধু পারিবারিক নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ এক মুহূর্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে বাইরে থাকায়, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পেতে পারে— এমন আশাও প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছে দলটি। আর সেই আশার কেন্দ্রে এখন তারেক রহমান।
বিএনপি সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশে ফিরেই টানা তিন দিনের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তারেক। বিমানবন্দরের বাইরে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে সংবর্ধনা জানানোর পরিকল্পনা করেছেন। সেখান থেকে তিনি যাবেন ঢাকার হাসপাতালে অসুস্থ মা খালেদা জিয়াকে দেখতে। পরে গুলশানের পারিবারিক বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
শুক্রবার তারেক যাবেন তাঁর পিতা, বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে। একই দিনে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধেও ফুল দেবেন। শনিবারের কর্মসূচি আরও তাৎপর্যপূর্ণ— সেদিন তিনি যাবেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ওসমান হাদির সমাধিস্থলে। পাশাপাশি, জুলাই আন্দোলনে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালেও যাওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিনই তিনি নিজেকে ভোটার হিসাবে নথিভুক্ত করতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে আবেদন করবেন বলে জানা গিয়েছে।
তারেকের এই প্রত্যাবর্তনের দিকে শুধু বাংলাদেশ নয়, নজর রয়েছে ভারতেরও। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না— এ কথা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের দফতর। ফলে দেশের পুরনো রাজনৈতিক শক্তিগুলির মধ্যে বিএনপিই কার্যত একমাত্র বড় দল হিসাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেক কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, বাংলাদেশে কট্টরপন্থী শক্তির উত্থান ঠেকাতে তারেক রহমান আপাতত একটি ‘গ্রহণযোগ্য মুখ’ হয়ে উঠতে পারেন।
তবে সব আশার মাঝেও সংশয় রয়েছে। সাম্প্রতিক হিংসা, রাজনৈতিক খুন এবং অস্থিরতা নির্বাচনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। ওসমান হাদির হত্যাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তুঙ্গে। হাদির পরিবার দাবি করেছে, ভোট বানচাল করতেই পরিকল্পিত ভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এই অভিযোগের আঙুল উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের দিকেও।
এই অশান্ত আবহেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও চাপানউতোর চলছে। চলতি সপ্তাহে দু’বার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে নয়াদিল্লি। আবার ঢাকাও ভারতীয় হাই কমিশনারকে ডেকেছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও, ইউনূস সরকারের একাধিক উপদেষ্টা দাবি করেছেন— সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা চলছে। তাঁদের মতে, বাংলাদেশে চলতে থাকা ভারতবিরোধী প্রচারই মূল সমস্যার কারণ।
এই টানাপড়েনের প্রভাব সীমান্তেও পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে বিক্ষোভ হয়েছে। বাংলাদেশে যুবক দীপু দাস খুনের প্রতিবাদে ভারতে বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন চলছে। যদিও দীপুর পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ রাজনৈতিক ভাবে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাঁর নেতৃত্ব বিএনপিকে কতটা সংগঠিত করতে পারবে, গণতন্ত্রের পথে দেশকে কতটা এগিয়ে নিতে পারবে— তার উত্তর দেবে আগামী কয়েক মাস। তবে আপাতত এটুকু স্পষ্ট, ১৭ বছর পর তাঁর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।