পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যেই ইউনূসের বিএনপি!
বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তাপ চড়াচ্ছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের সম্ভাবনা। ইতিমধ্যেই পদত্যাগ নিয়ে তাঁর ‘চিন্তাভাবনা’ প্রকাশ্যে এসেছে, আর সেই প্রেক্ষিতেই শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বৈঠকে বসতে চলেছেন বিরোধী দল বিএনপি ও ইসলামপন্থী জামায়াত নেতাদের সঙ্গে। এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা তুঙ্গে।
সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’য় আয়োজিত এই আলোচনাগুলোর পেছনে মূল প্রশ্ন: ইউনূস আদৌ পদত্যাগ করবেন কিনা, আর নির্বাচন নিয়ে তাঁর অবস্থান ঠিক কী?
প্রথম আলো জানিয়েছে, বিএনপি ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিল। প্রথমে সাড়া না মেলায় দলটি সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং আরও দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে। কিন্তু পরে ইউনূস বিএনপিকে শনিবার সন্ধ্যা ৭:৩০টায় সাক্ষাৎ করার সময় দেন। একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় তাঁর জামাত নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।
বিএনপি বারবার স্পষ্ট করেছে, তারা ইউনূসের পদত্যাগ চায় না। বরং তারা জানতে চায়, দেশের পরবর্তী নির্বাচনের রোডম্যাপ কী হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা পদত্যাগ চাই না। আমরা শুধু জানতে চাই, নির্বাচন কীভাবে ও কবে হবে। উনি কেন সে পথে এগোচ্ছেন না, বুঝতে পারছি না। তবে উনি যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে জাতি নিশ্চয় বিকল্প খুঁজে নেবে। এটা ব্যক্তিগত বিষয় নয়, রাষ্ট্রীয় বিষয়।”
এদিকে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ হওয়ার পরে রাজনৈতিক ময়দানে সবচেয়ে সংগঠিত শক্তি হিসেবে বিএনপি-ই এখন দেশের সবচেয়ে বড় দল। প্রথমদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে থাকলেও, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় তাদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলিও একই রকম চিন্তায়। ইউনূসের পদত্যাগ কি তাহলে নির্বাচনের বিলম্ব ঘটানোর একটি কৌশল? এই প্রশ্নও এখন উঠছে রাজনৈতিক আলোচনায়।
বৃহস্পতিবার ইউনূস দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন অন্যান্য উপদেষ্টাদের সঙ্গে। সেখানে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন এবং একটি নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন বলে খবর। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, নতুন কাঠামোয় তিনি থাকতে চান না। তার আগের দিনই সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জ়ামান বলেন, “ডিসেম্বারের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত।”
পরিস্থিতি ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। এই মুহূর্তে সব দৃষ্টি শনিবারের বৈঠকগুলোর দিকেই। সেখানেই নির্ধারিত হতে পারে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ।
আপনার জিমেল আইডি কি অন্য কেউ ব্যবহার করছে? সতর্ক না হলে বিপদ ডেকে আনতে পারেন!