বিক্রি হল বব ডিলানের প্রিয় নিউইয়র্কের বাড়ি!
গান, কবিতা আর প্রতিবাদের ভাষায় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন Bob Dylan। তাঁর কণ্ঠে যেমন ইতিহাসের প্রতিধ্বনি শোনা যায়, তেমনই তাঁর জীবনের নানা অধ্যায়ও অনুরাগীদের কাছে সমান আকর্ষণের। সেই কারণেই সম্প্রতি নিউইয়র্কে তাঁর দীর্ঘ ১৪ বছরের বাসস্থান বিক্রি হওয়ার খবর ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।
হারলেমের ঐতিহাসিক স্ট্রাইভার্স রো-এ অবস্থিত এই টাউনহাউসে ১৯৮৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বসবাস করেছিলেন ডিলান। সম্প্রতি প্রায় ২৭ কোটি টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) মূল্যে বিক্রি হয়েছে তাঁর এই স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। সংগীতপ্রেমীদের কাছে এটি শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী।
১৮৯৩ সালে খ্যাতনামা স্থপতি স্ট্যানফোর্ড হোয়াইট-এর নকশায় তৈরি এই টাউনহাউসটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের অনন্য উদাহরণ। পাঁচটি শয়নকক্ষ, আড়াইটি বাথরুম এবং বিস্তৃত বসার জায়গা নিয়ে তৈরি বাড়িটিতে পুরনো আমলের নকশার সঙ্গে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সুন্দর মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে।
প্রবেশপথেই চোখে পড়ে কাঠের প্যানেল দেওয়া বারান্দা ও নকশাদার টাইলস। সেখান থেকে পৌঁছনো যায় প্রায় ১৯ ফুট দীর্ঘ প্রশস্ত বৈঠকখানায়। এই ঘরেই বহু আড্ডা, সুরের আসর এবং সৃজনশীল মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে বাড়িটি বলে মনে করেন অনুরাগীরা।
বৈঠকখানার পাশেই রয়েছে রান্নাঘর। ঊনবিংশ শতাব্দীর ছোঁয়া ধরে রাখতে কাঠের আসবাব, কারুকাজ এবং ঐতিহ্যবাহী নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। রান্নাঘরের সঙ্গে লাগোয়া খোলা ছাদে বসে গল্প, গান কিংবা নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।
বাড়ির অন্যতম আকর্ষণ ৫০ ফুটেরও বেশি চওড়া পার্লার ফ্লোর। নকশাদার ফায়ারপ্লেস, ঐতিহ্যবাহী পকেট ডোর, বারান্দা এবং মনোরম আলোকসজ্জা এই অংশটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পুরনো স্থাপত্যের সৌন্দর্য বজায় রেখেই আধুনিক জীবনযাপনের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে পুরো অন্দরমহল।
তিনতলায় রয়েছে প্রশস্ত মাস্টার বেডরুম ও সংলগ্ন বাথরুম। এখান থেকে দূর পর্যন্ত শহরের দৃশ্য দেখা যায়। ডিলানের ঘনিষ্ঠদের মতে, এই শয়নকক্ষ ছিল তাঁর বিশেষ প্রিয়। সৃষ্টিশীল নির্জনতা আর শান্ত পরিবেশের জন্য এখানেই তিনি দীর্ঘ সময় কাটাতে ভালোবাসতেন।
বাড়িটি আজ নতুন মালিকের হাতে গেলেও তার প্রতিটি কোণ যেন এখনও বহন করে এক কিংবদন্তি শিল্পীর স্মৃতি। ডিলানের গান যেমন সময়কে অতিক্রম করে বেঁচে আছে, তেমনই নিউইয়র্কের এই ঐতিহাসিক বাড়িটিও তাঁর জীবনের এক মূল্যবান অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?