১৪ ফেব্রুয়ারি কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় কেন্দ্র
দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা কৃষকদের আন্দোলন এবার নতুন মোড় নিতে চলেছে। কেন্দ্রের তরফ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শনিবার খানাউড়ি সীমানায় অবস্থানরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল। এর পরেই বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও কৃষক নেতারা এখনও এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি।
কেন্দ্রের প্রতিনিধি দলের কৃষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ
শনিবার কেন্দ্রের একটি প্রতিনিধি দল খানাউড়ি সীমানায় উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভারতের বন পরিষেবা আধিকারিক এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের যুগ্ম সচিব প্রিয় রঞ্জন। সীমানার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি তাঁরা কৃষক নেতা জগজিৎ সিং ডাল্লেওয়ালের সঙ্গে দেখা করেন।
ডাল্লেওয়াল প্রায় ৫৪ দিন ধরে আমরণ অনশনে রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে প্রিয় রঞ্জন জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কৃষক প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কৃষক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
শনিবার কেন্দ্রের প্রস্তাব নিয়ে কৃষক নেতারা একটি দুই ঘণ্টার বৈঠক করেন। বৈঠকের পর কাকা সিং কোটালা জানান, প্রস্তাবটি নিয়ে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (অরাজনৈতিক) এবং কিষাণ মজদুর মোর্চার মধ্যে আলোচনা চলছে। আলোচনার পরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
কৃষকদের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। তাঁদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে:
- ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) নিশ্চিত করা
- কৃষিঋণ মকুব করা
- কৃষকদের পেনশনের ব্যবস্থা
- বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি না করা।
আন্দোলনের পটভূমি
২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পঞ্জাব এবং হরিয়ানার শম্ভু এবং খানাউড়ি সীমানায় আন্দোলনে বসেন কৃষকেরা। এরপর থেকে তাঁদের দাবি নিয়ে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
কেন্দ্রের সুর নরম হওয়ার কারণ
ডাল্লেওয়ালের দীর্ঘ অনশন এবং কৃষকদের অনবরত চাপের ফলে কেন্দ্রের সুর কিছুটা নরম হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্দোলনের ৫৪ দিন অতিক্রান্ত হলেও ডাল্লেওয়াল এখনও অনশন ভাঙেননি। কৃষকদের দাবিগুলি মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্র যদি নমনীয় হয়, তবে এই বৈঠক একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
১৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র এবং কৃষক নেতাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, তা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করছে কৃষকদের সিদ্ধান্তের উপর। কৃষক নেতারা সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের অবস্থান চূড়ান্ত করবেন।
কৃষকদের দাবি মেনে নেওয়া হলে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই আন্দোলন একটি স্থায়ী সমাধানের পথে এগোতে পারে। তবে, কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত ও অবস্থানই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।
মহাকুম্ভের ‘মোনালিসা’র খ্যাতি নিয়ে বিরক্তি! কেন বললেন, ‘দিনভর ছবি তুলতে ব্যস্ত’?