১৩-তে আইআইটি, ২৪-এ গবেষক: বিহারের মাটিতে জন্ম ‘বিস্ময় বালক’ সত্যম কুমারের আজকের ঠিকানা

১৩-তে আইআইটি! ভারতে মেধার গল্প নতুন নয়। তবু কিছু কিছু জীবনকাহিনি সময়ের সীমানা ছাপিয়ে যায়। তেমনই এক অনন্য উদাহরণ বিহারের বক্সার জেলার বাখোরাপুর গ্রামের ছেলে সত্যম কুমার। গরিব কৃষক পরিবারে…

January 24, 2026
1 min read

১৩-তে আইআইটি!

ভারতে মেধার গল্প নতুন নয়। তবু কিছু কিছু জীবনকাহিনি সময়ের সীমানা ছাপিয়ে যায়। তেমনই এক অনন্য উদাহরণ বিহারের বক্সার জেলার বাখোরাপুর গ্রামের ছেলে সত্যম কুমার। গরিব কৃষক পরিবারে জন্ম, সীমিত সুযোগ—সব বাধা পেরিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা আর অধ্যবসায় থাকলে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।

১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই জন্ম সত্যমের। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অস্বাভাবিক রকমের আগ্রহ ও দক্ষতা ছিল তাঁর। সেই প্রতিভাই দেশবাসীর নজরে আসে, যখন মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি আইআইটি-জেইই পাশ করেন। ২০১২ সালে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ৬৭০ র‍্যাঙ্ক করে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতের সবচেয়ে কম বয়সে আইআইটিতে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের একজন। সাধারণত যেখানে পড়ুয়ারা ১৭–১৮ বছর বয়সে এই পরীক্ষায় বসেন, সেখানে সত্যম ছিলেন ব্যতিক্রম।

সাফল্যের এই পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। অভাব-অনটনের সংসারে বেড়ে ওঠা সত্যমের কাছে কোচিং, বই বা সুযোগ—কিছুই সহজলভ্য ছিল না। তবু দমে যাননি তিনি। অধ্যবসায়ের জোরেই আইআইটির বি-টেক–এম-টেক ডুয়াল ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হন। আইআইটি কানপুরে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা ল্যাব, রোবটিক্স ক্লাব ও ছাত্র উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন সত্যম।

রোবটিক্সে তাঁর আগ্রহ থেকেই জল ও স্থলে চলতে পারে এমন রোবট তৈরির কাজ করেন তিনি ও তাঁর সহপাঠীরা। ২০১৪ সালে একটি রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থানও অর্জন করেন। পরে ফ্রান্সে গবেষণা ইন্টার্নশিপের সুযোগ, ভারত সরকারের টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ফেলোশিপ—সাফল্যের পালক একে একে যোগ হতে থাকে।

২০১৮ সালে আইআইটি কানপুর থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হন সত্যম। পরের বছর গবেষণার জন্য পাড়ি দেন আমেরিকার টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেন তিনি। গবেষণার বিষয়—মেশিন লার্নিং ও ব্রেন–কম্পিউটার ইন্টারফেসের সমন্বয়। মাত্র ২৪ বছর বয়সে, ২০২৪ সালে গবেষণাপত্র জমা দেন সত্যম।

গবেষণা শেষ করেই অ্যাপলে শিক্ষানবিশ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু, পরে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসে মেশিন লার্নিং সিস্টেম রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করছেন এই ‘বিস্ময় বালক’।

বিহারের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে সত্যম কুমারের যাত্রা আজ বহু তরুণের অনুপ্রেরণা—যেখানে স্বপ্ন, পরিশ্রম আর অটল সংকল্প মিলেই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics
IIT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *