মুম্বই-চেন্নাই ম্যাচে ‘কনকাশন সাব’ !
Mumbai Indians বনাম Chennai Super Kings ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। মূল প্রশ্ন—নিয়ম ভেঙে কি সত্যিই ১৩ জন ক্রিকেটার খেলিয়েছিল মুম্বই? নাকি দায়টা আসলে ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারদের?
ঘটনার সূত্রপাত মিচেল স্যান্টনারকে ঘিরে। ফিল্ডিং করতে গিয়ে কাঁধে চোট পান তিনি। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে ‘কনকাশন সাব’ হিসেবে নামানো হয় Shardul Thakur-কে। এখানেই শুরু হয় বিতর্ক, কারণ International Cricket Council-এর নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র মাথায় আঘাত লাগলে তবেই কনকাশন সাব নেওয়া যায়। কাঁধের চোটের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
আরও প্রশ্ন উঠছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে—মাঠ ছাড়ার আগে স্যান্টনার তাঁর পুরো ৪ ওভার বল করে ফেলেছিলেন। অর্থাৎ, তিনি খেলার বাইরে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। টেলিভিশন রিপ্লেতে মাথায় গুরুতর আঘাতের স্পষ্ট প্রমাণও মেলেনি।
এদিকে, ম্যাচের আগেই ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ হিসেবে আরেকজন খেলোয়াড়কে ব্যবহার করেছিল মুম্বই। ফলে স্যান্টনারের পরিবর্তে শার্দূলের নামা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এভাবে কি কার্যত অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়া হল?
বিতর্ক বাড়তেই মুখ খুলেছেন মুম্বইয়ের কোচ Mahela Jayawardene। তাঁর দাবি, নিয়ম ভাঙা হয়নি। কোচের বক্তব্য অনুযায়ী, স্যান্টনার শুধু কাঁধে নয়, প্রথমে মাথা ও গলাতেও আঘাত পেয়েছিলেন। ড্রেসিংরুমে ফিরে তিনি মাথা ঘোরার অভিযোগ করেন, যার পর তাঁকে শুইয়ে রাখা হয় এবং পরে স্ক্যানের জন্য পাঠানো হয়।
জয়বর্ধনে আরও স্পষ্ট করেন, কনকাশন সাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত মুম্বই একতরফাভাবে নেয়নি। তারা শুধু আবেদন করেছিল। চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছেন ম্যাচ রেফারি ও মাঠের আম্পায়াররা। তাঁর কথায়, “আমরা পরিস্থিতি জানিয়েছি, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অফিসিয়ালরাই।”
তবে আরেকটি বিতর্কিত দিক হল—স্যান্টনার একজন বাঁহাতি স্পিনার, আর শার্দূল একজন ডানহাতি পেসার। সাধারণত কনকাশন সাবের ক্ষেত্রে ‘লাইক-ফর-লাইক’ রিপ্লেসমেন্টের কথা বলা হয়। যদিও কোচের যুক্তি, শার্দূলকে মূলত ব্যাটিংয়ের জন্যই নামানো হয়েছিল এবং তাঁকে দিয়ে বল করানো হয়নি।
সব বিতর্কের মাঝেও ম্যাচের ফল কিন্তু একপেশে ছিল। Chennai Super Kings ২০৭ রান তোলার পর মুম্বইকে গুটিয়ে দেয় মাত্র ১০৪ রানে। শার্দূলও বড় কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি—৮ নম্বরে নেমে করেন মাত্র ৬ রান।
তবে ফলাফলের থেকেও বড় হয়ে উঠেছে এই প্রশ্ন—নিয়মের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে তো? অনেকের মতে, যদি কোনও ত্রুটি থেকে থাকে, তবে তা শুধু দলের নয়, ম্যাচ পরিচালনাকারী অফিসিয়ালদেরও দায়।
এই ঘটনায় স্পষ্ট, আধুনিক ক্রিকেটে প্রযুক্তি ও নিয়ম যতই উন্নত হোক, মাঠের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?