আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে আন্দোলন স্থগিত শিক্ষাকর্মীদের!
১১ দিনের টানা লড়াইয়ের পরে অবশেষে অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন চাকরিচ্যুত গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীরা। তবে আন্দোলন থামানোর কারণ সরকারের আশ্বাস নয়—বরং এবার তাঁদের নজর সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ‘রিভিউ পিটিশন’ দায়েরের প্রস্তুতিতে।
বৃহস্পতিবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দল। সেখানে বোর্ড আশ্বাস দেয় যে রাজ্য সরকার একযোগে রিভিউ পিটিশনের পথে এগোবে এবং আইনি লড়াইতেও শিক্ষাকর্মীদের পাশে থাকবে।
আশ্বাস নয়, রণকৌশল বদল
আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা সরকারের কথায় আন্দোলন থেকে সরে আসছেন না, বরং আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপে প্রস্তুতি নিতেই সাময়িক বিরতি। দীর্ঘ অনশন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় কয়েক জন শিক্ষাকর্মী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, সেই বাস্তবতাও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
মলয় রায়, এক গ্রুপ ডি কর্মী বলেন,
“আমাদের মূল দাবি ছিল ‘যোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ। তা নিয়ে এখনও পর্ষদের কোনও স্পষ্ট বক্তব্য নেই। তবে আদালতের লড়াইয়ে যাওয়ার যে আশ্বাস মিলেছে, তার জন্য প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। তাই আপাতত আন্দোলন স্থগিত করছি।”
সুপ্রিম কোর্টের রায় ও চাকরিচ্যুতদের ক্ষোভ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। রায় অনুযায়ী, যাঁরা ‘দাগি’ নন, সেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলে যেতে পারবেন, তবে গ্রুপ সি ও ডি কর্মীদের চাকরি বাতিলই বহাল থাকছে। সেই সিদ্ধান্তেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন শিক্ষাকর্মীরা।
তাঁদের অভিযোগ ছিল, রাজ্য সরকার কেবলমাত্র শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, অথচ শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে কোনও আলোচনায় যাচ্ছে না। এমনকি শীর্ষ আদালতে তাঁদের হয়ে উপযুক্ত সওয়ালও করা হয়নি। সেই ক্ষোভ থেকেই শুরু হয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ভিতরে অনশন।
ভাতা ও সরকারি ঘোষণা
চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে জানিয়ে দেন যে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য সরকার তাঁদের ভাতা দেবে।
- গ্রুপ সি কর্মীরা পাবেন মাসিক ₹২৫,০০০
- গ্রুপ ডি কর্মীরা পাবেন মাসিক ₹২০,০০০
সেই সঙ্গে ‘সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প’-এর আওতায় ভাতা চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা করা হয়। তবুও শিক্ষাকর্মীদের আন্দোলন চলতেই থাকে—শেষমেশ আইনি প্রস্তুতির স্বার্থে এবার সাময়িক বিরতি।
সামনে লম্বা লড়াই
শিক্ষাকর্মীদের দাবি এখন একটাই—যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ এবং সকলের চাকরি ফেরানো। এই রিভিউ পিটিশনের লড়াই সেই দাবির দিকেই আরও এক ধাপ এগোনোর চেষ্টা।
আন্দোলন হয়তো আপাতত থেমেছে, কিন্তু তাঁদের চোখে এখনও স্পষ্ট—লক্ষ্য একটাই, চাকরি ফেরানো ছাড়া বিকল্প নেই।
গরমে বাহুমূলের বিশেষ যত্ন: দুর্গন্ধ ও তেলচিটে ভাব দূর করার ৫ সহজ ধাপ