হ্যাল সরানো নিয়ে তোলপাড়!
চলতি সপ্তাহে কর্নাটকে ছড়িয়েছে এক গুঞ্জন—স্বাধীনতার পর থেকে বেঙ্গালুরুকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রধান ঘাঁটি হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) কি এবার অন্য রাজ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন ঘূর্ণিঝড় তুলেছে রাজনৈতিক মহলে। আর এই আলোড়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং টিডিপি প্রধান চন্দ্রবাবু নায়ডু।
চন্দ্রবাবুর প্রস্তাব, কেন্দ্রের নীরবতা
সম্প্রতি এক নীতি আয়োগ বৈঠকে চন্দ্রবাবু সরাসরি প্রস্তাব দেন—HAL-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা যেন অন্ধ্রপ্রদেশে স্থানান্তর করা হয়। সেই অনুরোধে কেন্দ্র সাড়া দিচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হতেই কর্নাটকে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। উল্লেখ্য, HAL শুধুমাত্র একটি সংস্থা নয়—এটি বেঙ্গালুরুর গর্ব, যেখানে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং প্রতিরক্ষা যন্ত্রাংশ নির্মাণ হয়।
যদি এই সংস্থা সত্যিই কর্নাটক থেকে সরে যায়, তা হলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বিপন্ন হবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান, সংশ্লিষ্ট শিল্প, প্রযুক্তি হাব ও গবেষণার পরিকাঠামো।
কর্নাটকের ক্ষোভে রাজনৈতিক রূপ
খবর ছড়াতেই সরব হয়েছে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার কড়া ভাষায় বলেন, “HAL কর্নাটকের অহংকার। এই প্রতিষ্ঠানকে রাজ্যের বাইরে সরানো হলে তা শুধু অবিচার নয়, ইতিহাসের অবমাননাও। প্রয়োজনে জমি দেওয়া হবে, কিন্তু HAL এখানেই থাকবে।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “এই বিষয়ে কর্নাটক থেকে নির্বাচিত বিজেপি সাংসদেরা এত চুপ কেন? কেন্দ্রের মুখ খুলতেই হবে—খবরটি সত্যি কি না, সেটি অবিলম্বে জানাতে হবে।”
অন্যদিকে, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী এমবি পাতিল কেন্দ্রের ওপর ফেডারেল কাঠামো লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “একতরফাভাবে HAL সরানোর মতো সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নিতে পারে না। করলে কর্নাটকের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিবাদে নামব।”
HAL-এর গুরুত্ব শুধু কর্নাটকে নয়
HAL কেবল কর্নাটকের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির গর্ব নয়, বরং ভারতের আত্মনির্ভর সামরিক কৌশলের মূল স্তম্ভ। এখানে তৈরি হয়েছে ‘তেজস’-এর মতো যুদ্ধবিমান, এবং হেলিকপ্টার উৎপাদনের বিশেষ ইউনিট রয়েছে ইয়েলেহঙ্কা ও টুমকুরুতে। এটি সরানো মানেই একটি রাজ্যের অর্থনীতি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি পরিকাঠামোয় বিশাল ধাক্কা।
উপসংহার: প্রশ্নের চেয়ে উত্তরের প্রয়োজন বেশি
HAL-কে সরানো হবে কি না—এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও বিবৃতি আসেনি। কিন্তু এই ‘খবর’-এর জেরে কর্নাটকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এটি নিছক গুজব হলে কেন্দ্রকে অবিলম্বে তা স্পষ্ট করতে হবে। আর যদি সত্যিই এমন কোনও পরিকল্পনা থাকে, তবে দেশের ফেডারেল কাঠামো, রাজ্যীয় অধিকার ও প্রযুক্তিগত ভারসাম্যের প্রশ্ন জড়িয়ে যাবে তাতে।
কবিতা না কি যুদ্ধ? নুসরতের রহস্যঘেরা পোস্টে কি সম্পর্ক পুনর্মিলনের ইঙ্গিত?