হেলেনা লিউকের জীবনের গল্প: ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, এবং পরিণতি

হেলেনা লিউকের জীবনের গল্প বলিউডের আশির দশকের অভিনেত্রী হেলেনা লিউক সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন। ভারতীয় সিনেমার একজন অংশগ্রহণকারী হলেও, তাঁর জীবন বলিউডে সফলতার চেয়ে বেশি আলোচনা পেয়েছিল তাঁর সম্পর্কের কারণে। বাঙালি…

November 6, 2024
1 min read

হেলেনা লিউকের জীবনের গল্প

বলিউডের আশির দশকের অভিনেত্রী হেলেনা লিউক সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন। ভারতীয় সিনেমার একজন অংশগ্রহণকারী হলেও, তাঁর জীবন বলিউডে সফলতার চেয়ে বেশি আলোচনা পেয়েছিল তাঁর সম্পর্কের কারণে। বাঙালি সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তীর প্রথম স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হেলেনার জীবনজুড়ে ছিল নানান উত্থান-পতন এবং আলোচনার বিষয়বস্তু। ১৯৭৯ সালে মিঠুনের সঙ্গে মাত্র চার মাসের বিবাহিত জীবনই ছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বলিউডে হেলেনার পেশাগত জীবন

হেলেনা লিউকের অভিনয় ক্যারিয়ার মূলত পার্শ্বচরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৮০ সালে ‘জুদাই’ ছবিতে তাঁকে পার্শ্বচরিত্রে দেখা গিয়েছিল, যেখানে তিনি জিতেন্দ্র এবং রেখার পাশে অভিনয় করেছিলেন। তবে ছবিটি দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি, এবং হেলেনার ক্যারিয়ারও তেমন সফল হয়নি। আশির দশকে ‘সাথ সাথ’, ‘আও পেয়ার করেঁ’, ‘দো গুলাব’, এবং ‘ভাই আখির ভাই হোতা হ্যায়’ ছবিগুলোতে তিনি ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন।

আটের দশকের শেষে অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে তিনি নিউইয়র্কে চলে যান এবং সেখানে একটি বিদেশি বিমান সংস্থায় বিমানকর্মী হিসাবে যোগদান করেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি আর পর্দায় ফিরেননি।

মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রেম, বিয়ে এবং বিচ্ছেদ

মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে পরিচয় হেলেনার জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। শোনা যায়, অভিনেত্রী সারিকার সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর মিঠুন একাকিত্ববোধে ভুগছিলেন, আর সেই সময়ই তাঁর আলাপ হয় হেলেনার সঙ্গে। তাঁদের সম্পর্ক দ্রুতই ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয় এবং ১৯৭৯ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। তবে এই বিবাহিত জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চার মাস পরেই তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। মিঠুন পরবর্তীতে একই বছরে অভিনেত্রী যোগীতা বালিকে বিয়ে করেন।

মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে হেলেনা এক পুরনো সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “মিঠুন আমাকে বোঝাত যে, আমরা একে অপরের জন্যই তৈরি। আমিও সেই ফাঁদে পা ফেলেছিলাম। কিন্তু পরে বুঝতে পারি, তাঁর সঙ্গে কাটানো সময় আমার জীবনের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো ছিল।” মিঠুনের প্রতি হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে হেলেনা বলেছিলেন, “আমি কখনও তাঁর সঙ্গে থাকতে চাইব না। ও আমাকে বুঝিয়েছিল যে, আমরা একে অপরের জন্যই তৈরি। তবে তা আমার জীবনের বড় ভুল ছিল।”

বিচ্ছেদের পর জাভেদের ফিরে আসা এবং অতৃপ্ত জীবন

বলিপাড়ায় গুঞ্জন ছিল, মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পেছনে জাভেদ খানের ভূমিকা ছিল। কলেজ জীবনে তাঁদের মধ্যে প্রেম ছিল, তবে সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শোনা যায়, মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে জড়িয়ে পড়ার পর, জাভেদ আবার হেলেনার জীবনে ফিরে এসেছিলেন। যদিও তাঁদের সেই পুনর্মিলনও স্থায়ী হয়নি, আর হেলেনা থেকে গিয়েছিলেন একা।

জীবনের শেষ দিনগুলোতে হেলেনা

বয়সের সঙ্গে শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে হেলেনার, এবং জীবনযুদ্ধে অবসন্ন হয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুর আগের দিন তিনি ফেসবুকে পোস্ট করে লেখেন, “কেমন একটা লাগছে। নানা ধরনের অনুভূতি কাজ করছে মনের মধ্যে। কিছুই বুঝতে পারছি না।” তাঁর এই পোস্টটিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তেও এক ধরনের বিষণ্ণতা এবং হতাশার ছাপ স্পষ্ট ছিল।

হেলেনার জীবন ছিল টানাপোড়েনের এক দৃষ্টান্ত। বলিউডে নিজের অবস্থান স্থায়ী করতে না পারা, পরিণয়ে স্থির হতে না পারা, আর শেষমেষ একাকী জীবন নিয়ে বিদেশে বসবাস—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক দুর্ভাগ্যপীড়িত অভিনেত্রী।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *