হৃদরোগ ও ‘গোল্ডেন আওয়ার’: কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?

গোল্ডেন আওয়ার হার্ট অ্যাটাকের সময় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? কীভাবে এটি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে? এই বিষয়গুলিই তুলে ধরেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুপ্রতীপ কুণ্ডু। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে…

December 4, 2024
1 min read

গোল্ডেন আওয়ার

হার্ট অ্যাটাকের সময় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? কীভাবে এটি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে? এই বিষয়গুলিই তুলে ধরেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুপ্রতীপ কুণ্ডু। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ, প্রতিরোধের উপায়, এবং দ্রুত চিকিৎসার গুরুত্ব।

হার্ট অ্যাটাকের প্রকোপ এবং কারণ

বর্তমান সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলেছে। কিন্তু ভারতে এই সংখ্যা অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি। ডা. কুণ্ডু বলেন, “ভারতে হৃদরোগের প্রভাব অনেক বেশি, এবং এর পেছনে রয়েছে জেনেটিক কারণ ছাড়াও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়মিত জীবনযাপন, এবং মানসিক চাপ।”

ভারতীয়দের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক সাধারণত ১০ বছর আগেই দেখা দেয়, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। ফলে, এই রোগের ঝুঁকি এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।

‘গোল্ডেন আওয়ার’ কী?

ডা. কুণ্ডু ব্যাখ্যা করেছেন, “হার্ট অ্যাটাকের পরে প্রথম এক থেকে দেড় ঘণ্টাকে বলা হয় ‘গোল্ডেন আওয়ার’। এই সময়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। তাই এই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

হার্ট অ্যাটাক হলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলে হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে এই ক্ষতি প্রতিরোধ করা যায়। চিকিৎসকের মতে, প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

উপসর্গ শনাক্ত করা কেন জরুরি?

হার্ট অ্যাটাকের প্রথম লক্ষণগুলো সঠিকভাবে চেনা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া জীবন রক্ষা করতে পারে। ডা. কুণ্ডু উল্লেখ করেছেন সাধারণ উপসর্গগুলো:

  1. বুকে তীব্র ব্যথা, যা কাঁধ, হাত, বা পিঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  2. শ্বাসকষ্ট বা বুকে ভার অনুভব।
  3. বমি ভাব বা হালকা মাথা ঘোরা।
  4. অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।

উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটবর্তী হাসপাতালে যোগাযোগ করা এবং ইসিজি করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব

ডা. কুণ্ডুর মতে, উপসর্গ দেখা দিলে বাড়িতে বসে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। ইসিজি করে নিশ্চিত হলে তৎক্ষণাৎ প্রাইমারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব। এর মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করা যায়।

তিনি আরও বলেন, “হার্ট অ্যাটাকের পর দেরি হলে হৃদযন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই গোল্ডেন আওয়ার মিস করা যাবে না।”

সচেতনতা ও প্রতিরোধের উপায়

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ডা. কুণ্ডু কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:

  • সুষম খাদ্য গ্রহণ: ভাজাভুজি ও চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: ধ্যান বা যোগব্যায়ামের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমান।
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার: এগুলো হৃদযন্ত্রের ক্ষতির অন্যতম কারণ।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

সচেতনতা বাড়ানোর বার্তা

হার্ট অ্যাটাকের সময় গোল্ডেন আওয়ার-এর গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. কুণ্ডু সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হোন। উপসর্গগুলো চিনুন এবং দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। এক ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করতে পারলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।”

উপসংহার

হৃদরোগের ঝুঁকি প্রতিরোধ ও সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে অনেক জীবন রক্ষা করা যায়। ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর গুরুত্ব বোঝা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। সঠিক সচেতনতা এবং সময়মতো পদক্ষেপই হতে পারে একটি জীবন রক্ষার চাবিকাঠি।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *