মজা, ক্ষোভ আর রাজনীতির মিশেল
‘হুলিগানিজ়ম’ ব্যান্ডের গান যেন সত্যিই ‘হুল’ ফুটিয়েছে সমাজে! অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও দেবরাজ ভট্টাচার্যের গাওয়া এই গানটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। কেউ গানটিকে ‘বৈপ্লবিক’ আখ্যা দিচ্ছেন, কেউ মজা পাচ্ছেন, আবার অনেকে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এমনকি সঙ্গীতশিল্পী মেখলা দাশগুপ্ত ও পরিচালক সৌরভ পালোধীর মতো শিল্পীরাও মুখ খুলেছেন এই বিতর্কে।
ভাইরাল হওয়া অংশে তিন ‘ঘোষ’-এর নাম
গানটির নাম ‘তুমি মস্তি করবে জানি’। শহরের এক গানের অনুষ্ঠানে কথোপকথনের ভঙ্গিতে গাওয়া হয় এই গান, যেখানে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পেনশন, নানা সামাজিক ইস্যু উঠে এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে সেই কয়েক সেকেন্ড, যেখানে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ ও সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের নাম উঠে এসেছে। কুণাল ঘোষ ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, গানে তিনি কোনো অপমান দেখেননি। তবে অন্য দুই নেতা নীরব রয়েছেন।
গানের অন্যতম স্রষ্টা দেবরাজ জানান, ‘‘২০১৫ সালে অনির্বাণের নাটক ‘চৌমাথা’-তে এই গানের সূচনা। র্যাপ অংশটি সময়ের সঙ্গে বদলায় এবং সচেতনভাবেই রাজনৈতিক রাখা হয়।’’
সৌরভ পালোধীর তীব্র প্রতিক্রিয়া
গানটিকে কেউ কেউ ‘বিপ্লবী’ বলছেন, যা সৌরভ পালোধীর মতে অত্যন্ত অতিরঞ্জিত। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিপ্লব এত সহজ নয়। ওদের কাজ নিয়ে কিছু বলব না, কিন্তু অনির্বাণ কিছু অদ্ভুত করে ফেলেছেন—এই ধারণা ঠিক নয়। এটা শোয়ের অংশ মাত্র, মজা হিসেবে নেওয়া উচিত। যদি সত্যিই রাজনৈতিক দায়িত্ব নিতে হয়, তাহলে বড় প্রশ্ন তুলতে হবে—চাকরি কেন বাতিল হচ্ছে, স্কুল কেন বন্ধ থাকছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যাদের নাম নেওয়া হয়েছে তাঁরা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ, যদিও বিতর্কিত। তাই এই মজার প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক।’’
মেখলা দাশগুপ্তর মত
মেখলার মতে, গানটিকে ‘প্রতিবাদের গান’ বলাও ভুল। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিবাদের গান হলে তাতে আরজি কর, এসএসসি দুর্নীতি প্রসঙ্গও আসা উচিত। আমার ব্যক্তিগত বোধ থেকে আমি এমন গান গাইব না।’’
দেবরাজের বক্তব্য
দেবরাজ সরাসরি জানিয়ে দেন, গানটি শুধু মজা করেই তৈরি। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা মজা বুঝেছেন, তাঁরা আনন্দ পেয়েছেন। যাঁরা পারেননি, বিষোদ্গার করেছেন।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘মানুষ এখন হুজুগে বাঁচে। এই বিতর্কও কেটে যাবে, নতুন কিছু এলেই এটা ভুলে যাবে।’’
বিতর্কিত কিন্তু জনপ্রিয়
গানটিকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে চলছে মিম, ভিডিও, আলোচনা। কেউ গানটিকে ব্যতিক্রমী ভাবছেন, কেউ বা বলছেন অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। দেবরাজ পরিষ্কার করে দেন, গানের মাধ্যমে তাঁরা কোনো বিপ্লবের ডাক দিতে চাননি। ‘‘আমরা যা বলতে চেয়েছি, সরাসরি বলেছি। আমাদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শিবির নেই বলেই হয়তো এত রাগ হচ্ছে,’’ বলেন তিনি।
একই গানে মজা, রাজনৈতিক খোঁচা, আর বাস্তবের ইঙ্গিত মিলে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত মিশ্রণ, যা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সহজেই ভাইরাল হয়ে পড়েছে। বিতর্ক চলছে, প্রশংসাও আসছে, আর এই হুজুগের মাঝেই গানটি বাঙালির সংস্কৃতিচর্চার আরেকটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে উঠছে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ