‘হুজুর, আমি বেঁচে আছি!’ — জীবিত প্রমাণে আট বছর ধরে লড়াই বিনয়ের

জীবিত প্রমাণে আট বছর ধরে লড়াই বিনয়ের! সরকারি খাতায় তিনি মৃত। অথচ নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে দিনের পর দিন সরকারি দফতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মধ্যপ্রদেশের ডিন্ডৌরি জেলার বাসিন্দা বিনয় কুমার। আট বছর…

March 29, 2025
1 min read

জীবিত প্রমাণে আট বছর ধরে লড়াই বিনয়ের!

সরকারি খাতায় তিনি মৃত। অথচ নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে দিনের পর দিন সরকারি দফতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মধ্যপ্রদেশের ডিন্ডৌরি জেলার বাসিন্দা বিনয় কুমার। আট বছর আগে কাগজে-কলমে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সেই ঘোষণার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি, কারণ বাস্তবে তিনি জীবিত, সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

মৃত্যুর শংসাপত্রে জীবনের লড়াই

বিনয়ের বিপদ শুরু হয় তখন, যখন তিনি নিজের স্ত্রীর নাম পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইলেন। গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েই চমকে উঠলেন তিনি। জানানো হলো, তিনি নাকি ২০১৭ সালেই মারা গেছেন! এমনকি তাঁর নামে একটি মৃত্যুর শংসাপত্রও রেকর্ডে জমা রয়েছে। স্ত্রীর নাম সংযুক্ত করা তো দূরের কথা, সরকারি খাতায় মৃত বলে বিবেচিত হওয়ায় সমস্ত সরকারি সুবিধা থেকেও বঞ্চিত তিনি।

কোথা থেকে শুরু এই বিভ্রান্তি?

জানা গিয়েছে, করঞ্জিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু আধিকারিক ও কর্মীর গাফিলতির কারণে বিনয়কে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। বিনয় বলেন, “আমি জানতেও পারিনি যে সরকারি কাগজে আমি মৃত! আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, আর আমরা চেয়েছিলাম সরকারি প্রকল্পের আওতায় কিছু সুবিধা নিতে। কিন্তু এখন তো সেই স্বপ্নও অধরা।”

দফতর থেকে দফতর

নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে বিনয় দফতরে দফতরে ছুটে চলেছেন। পঞ্চায়েত অফিস, বিডিও অফিস, এমনকি জেলাশাসকের দফতরেও গিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁর আর্তি যেন শোনার কেউ নেই। সব নথিপত্র, আধার কার্ড, ভোটার আইডি দেখিয়েও তিনি কোনো আশ্বাস পাননি।

বিনয়ের কথায়, “যখনই প্রমাণ দিতে যাই, সবাই বলে তদন্ত হবে। কিন্তু সেই তদন্তের আর কোনো অগ্রগতি নেই। আমার পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”

প্রশাসনের নীরবতা

স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে আট বছর ধরে কেন এই ভুলের সংশোধন হয়নি, সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এমন ঘটনা শুধু বিনয়ের নয়। দেশে বহু মানুষই ভুল তথ্যের শিকার হয়ে বছরের পর বছর সরকারি দফতরে ন্যায়ের জন্য লড়াই করে চলেছেন।

ভবিষ্যতের অপেক্ষায়

বিনয় এখনও আশায় আছেন। তিনি চান, প্রশাসন দ্রুত এই বিভ্রান্তি দূর করবে এবং তাঁকে জীবিত বলে স্বীকৃতি দেবে। তাঁর স্ত্রী ও অনাগত সন্তানের জন্য তিনি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চান।

“আমি জানি, আমি বেঁচে আছি। শুধু সরকারকেও সেটা বোঝাতে হবে।” — বিনয়ের এই কথাই যেন তাঁর অবিরাম লড়াইয়ের চূড়ান্ত প্রতীক।

বিজেপি-এডিএমকে জোট নিয়ে নতুন জল্পনা: শর্তই কি আলোচনার মূল বিষয়?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *