৪২ বছরেই নিভে গেল শেফালির আলো!
শুক্রবার গভীর রাতে আচমকাই থেমে গেল বলিউডের ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ শেফালি জ়ারিওয়ালার হৃদস্পন্দন। মাত্র ৪২ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। জীবন থেকে অকস্মাৎ সরে যাওয়ার এই খবর ভেঙে দিয়েছে তাঁর পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং লক্ষ লক্ষ অনুরাগীর মন। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন স্বামী পরাগ ত্যাগী। অথচ কয়েক ঘণ্টা আগেও কেউ ভাবেননি, তাঁদের জীবনের রঙ এত হঠাৎ ফিকে হয়ে যাবে।
শেফালির মৃত্যুসংবাদ যেন বজ্রাঘাতের মতো এসে পড়ে তাঁর মায়ের উপর। রাতেই খবর পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে যান হাসপাতালের দিকে সুনীতা জ়ারিওয়ালা। গাড়ির জানলা দিয়েই মেয়ে-জামাইয়ের চারপাশে ভিড়, শোকস্তব্ধ মুখ দেখে আঁচ করে ফেলেন সব কিছু। গাড়ির মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মা হিসেবে তাঁর অন্তরের আশা, ব্যাকুলতা এক লহমায় স্তব্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের গেটেই। সন্তানের মৃত্যু যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, সুনীতার কান্নায় যেন গোটা হাসপাতাল নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে।
অন্য দিকে স্বামী পরাগ ত্যাগীর কাছেও এই ক্ষতি কোনও শব্দেই মাপা সম্ভব নয়। প্রিয় মানুষটিকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেও সফল হলেন না তিনি। রাতের অন্ধকারে যখন শেফালিকে নিয়ে ছোটেন হাসপাতালে, তখনও বুকে আশা ছিল—সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু চিকিৎসকেরা যখন জানান, শেফালির হৃদস্পন্দন আর নেই, তখন বাকরুদ্ধ হয়ে যান পরাগ। তাঁকে সামলাতে ছুটে আসেন বন্ধুবান্ধব, পরিচিতজনেরা। কিন্তু এই শূন্যতা আর কোন সান্ত্বনাতে মুছে যাবে?
বলিউডেও নেমে আসে শোকের ছায়া। ‘কাঁটা লাগা’ মিউজ়িক ভিডিয়োর মাধ্যমে রাতারাতি খ্যাতি পাওয়া শেফালি ছিলেন এক সময়ের ট্রেন্ডসেটার। তাঁর নাচ, স্টাইল আর আত্মবিশ্বাস আজও মনে রেখেছেন দর্শকরা। পরে আরও ৩৫টিরও বেশি মিউজ়িক ভিডিয়োতে কাজ করেন তিনি। অভিনয়েও হাতেখড়ি হয়েছিল—২০০৪ সালে ‘মুঝসে শাদি করোগে’ ছবিতে একটি অতিথি চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে তাঁর পরিচিতির মূল সোপান ছিল ‘বিগ বস ১৩’। প্রয়াত অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লার সঙ্গেই তিনি ছিলেন সেই মরশুমের অন্যতম আলোচিত প্রতিযোগী।
মৃত্যুর পর রাতেই মুম্বইয়ের কুপার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর দেহ। সেখানে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলে। পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে, নিয়ম মেনে অভিনেত্রীর বাড়িতেও পৌঁছে গিয়েছেন কর্তব্যরত অফিসাররা।
শেফালির চলে যাওয়া এক অপূরণীয় ক্ষতি, যার রেশ দীর্ঘদিন টানবে তাঁর পরিবার ও অনুরাগীদের মধ্যে। জীবনের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি থেমে গেলেও, ‘কাঁটা লাগা’র সেই চিরস্মরণীয় ঝলক আর হাসিমুখ চিরকাল গেঁথে থাকবে মানুষের মনে।