হালিশহরে বৃদ্ধকে লাঠি দিয়ে হত্যা
হালিশহরের একটি বস্তিতে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা হাতাহাতিতে গড়ায় এবং এর পরিণতি হয়ে ওঠে অত্যন্ত মর্মান্তিক। রবিবার রাতের এই ঘটনার ফলে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
নিহত বৃদ্ধের নাম পরশনাথ সাউ, যাঁর বয়স আনুমানিক ৭০ বছর। তিনি বেলুড়পাড়ার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় হুকুমচাঁদ জুট মিলের কাছে থাকতেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, রবিবার দুপুরে পরশনাথের মেয়ে বাড়ির সামনের জায়গায় কাপড় শুকোতে দিয়েছিলেন। এই নিয়ে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি বাড়ির লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে।
এমন পরিস্থিতিতে, পরশনাথ বাড়ি থেকে বের হয়ে ঝগড়া থামাতে বলেন। কিন্তু অভিযোগ করা হচ্ছে, প্রতিবেশীদের মধ্যে তিন জন হঠাৎ করেই লাঠি নিয়ে এসে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। লাঠির আঘাতে পরশনাথ জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। তাঁর নাক থেকে রক্ত বের হতে শুরু করে। তাঁকে প্রথমে নৈহাটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা সেখানে এসে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর এলাকা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং তাঁরা জড়ো হয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে থাকেন। অনেকেই এই নৃশংস ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ছোটোখাটো সমস্যার জন্য এভাবে একজন বৃদ্ধের সঙ্গে এমন মারধর করা উচিত হয়নি।”
এদিকে, নিহত বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। তাঁরা বলেন, “অভিযুক্তদের ফাঁসি হওয়া উচিত। ছোট একটি কারণে কেন এই মারামারি? এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।” অভিযোগ উঠেছে যে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত দু’জন, বিকি চৌধুরি এবং অজয় চৌধুরি, ঘটনার পর থেকে পালিয়ে গেছেন।
হালিশহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। এলাকাবাসীরা এখন পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তার জন্য পদক্ষেপ করা হয়।
এই ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ। সবাই চাইছেন ন্যায়বিচার এবং যেন এমন পরিস্থিতি আর কখনো না ঘটে।