শীর্ষে ফিরতে জামশেদপুর ম্যাচেই চোখ মোহনবাগানের!
টানা জয়ের ছন্দে শুরু হলেও হঠাৎ করেই গতি হারিয়েছে Mohun Bagan Super Giant। শেষ দু’টি ম্যাচে এক ড্র ও এক হারে শীর্ষস্থান হাতছাড়া হয়েছে। বিশেষ করে Mumbai City FC-র বিরুদ্ধে হারটা যেন দলকে আরও চাপে ফেলেছে। তবে অতীত ভুলে এখন একটাই লক্ষ্য—শনিবার Jamshedpur FC-কে হারিয়ে আবার লিগের শীর্ষে ফেরা।
হোঁচটের পর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
আইএসএলের শুরুতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কাড়ে মোহনবাগান। কিন্তু সাম্প্রতিক ফলাফল সেই ধারাকে থামিয়ে দিয়েছে। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ড্র, তারপর মুম্বইয়ের কাছে হার—এই দুই ম্যাচেই মূল্যবান পাঁচ পয়েন্ট খোয়াতে হয়েছে।
এই অবস্থায় জামশেদপুর ম্যাচ কার্যত ‘ডু অর ডাই’। কারণ দুই দলের পয়েন্ট এখন সমান। ফলে এই ম্যাচে জয়ী দলই উঠে যাবে শীর্ষে।
প্রতিপক্ষকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না দল
জামশেদপুরের মাঠে খেলতে নামা মানেই কঠিন পরীক্ষা—এ কথা ভালো করেই জানে মোহনবাগান। অতীতেও সেখানে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে দল। তাই প্রতিপক্ষকে একেবারেই হালকা ভাবে নিচ্ছেন না কোচ Sergio Lobera।
লোবেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আগের ম্যাচে সুযোগ নষ্ট করেছি। এখন আর ভুলের জায়গা নেই। এই ম্যাচ খুব কঠিন হতে চলেছে।”
চাপ নিয়ে কী বলছেন কোচ?
দলের উপর চাপ আছে কি না—এই প্রশ্ন উঠতেই ভিন্নভাবে জবাব দিয়েছেন লোবেরা। তাঁর মতে, ফুটবল মাঠের চাপ জীবনের বড় সমস্যার তুলনায় কিছুই নয়।
তিনি বলেন, “যারা পরিবারের জন্য লড়াই করছেন, তাদের চাপ অনেক বেশি। আমরা ভাগ্যবান—আমাদের সামনে খেলাটাই আছে।” এই বক্তব্যে যেমন বাস্তবতার ছোঁয়া, তেমনই খেলোয়াড়দের চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা।
দলের আত্মবিশ্বাস এখনও অটুট
শেষ ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে উঠতে মরিয়া গোটা দল। লোবেরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন নিজেদের আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন তাঁরা।
দলের ফুটবলাররাও আত্মবিশ্বাস হারাননি। অনুশীলনে তারই ঝলক মিলছে। বিশেষ করে Liston Colaco নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলাখুলি বলেছেন—তিনি এখনও নিজের সেরা দিতে পারেননি, তবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে চান।
কী হতে পারে ম্যাচের চিত্র?
এই ম্যাচ শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, মানসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। যে দল জিতবে, তারা শুধু শীর্ষে উঠবে না—আত্মবিশ্বাসেও অনেকটাই এগিয়ে যাবে।
মোহনবাগানের জন্য এটি একপ্রকার প্রত্যাবর্তনের সুযোগ। অন্যদিকে জামশেদপুরও এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবে না।
শেষ কথা
ফুটবলে ফর্ম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই মানসিক শক্তিও বড় ফ্যাক্টর। মোহনবাগান যদি নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মাঠে নামতে পারে, তা হলে শীর্ষে ফেরা খুব কঠিন নয়।
এখন দেখার—শনিবারের লড়াইয়ে কারা শেষ হাসি হাসে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না