হারেও অনুপ্রেরণা জোকোভিচ!
আরও একবার গ্র্যান্ড স্ল্যামের পুরস্কার মঞ্চে দাঁড়াবেন—এমনটা নিজেও নাকি ভাবেননি নোভাক জোকোভিচ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারের পর তাই তাঁর কণ্ঠে ছিল না হতাশার ভার, ছিল অভিজ্ঞতার শান্ত স্বীকারোক্তি—“কাল কী হবে, ঈশ্বরই জানেন।”
২০০৫ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলেছিলেন জোকোভিচ। সে সময় কার্লোস আলকারাজ়ের বয়স মাত্র দেড় বছর। টেনিসের এই দীর্ঘ সময়রেখায় জোকোভিচ নিজেই হয়ে উঠেছেন এক জীবন্ত অধ্যায়। ২২ বছর ধরে মেলবোর্নে লড়াই, ১০টি ট্রফি, অগণিত স্মৃতি। তবু ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বপ্ন এ বারও অধরাই থেকে গেল। ফাইনালে তাঁকে থামালেন ২২ বছরের আলকারাজ়—যাঁর কাছে এই মঞ্চ ছিল নতুন, কিন্তু আত্মবিশ্বাসে ভরা।
এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারলেন জোকোভিচ। তবু হারকে মুখ থুবড়ে পড়ার গল্প বানাননি তিনি। বরং রানার্স-আপের ট্রফি হাতে নিয়ে প্রথমেই অভিনন্দন জানালেন আলকারাজ়কে। ছোট প্রতিপক্ষের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি ইতিহাস তৈরি করেছ। সামনে তোমার অনেক সময় রয়েছে। আগামী ১০ বছরে তোমাকে আরও বহুবার এ ভাবে দেখার আশা রাখি।” কথাগুলোতে ছিল না আনুষ্ঠানিকতা—ছিল একজন চ্যাম্পিয়নের অকপট স্বীকৃতি।
অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর সম্পর্ক সহজ ছিল না। ২০২২ সালে কোভিড টিকা না নেওয়ায় ভিসা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল। কিন্তু বাকি ২১ বছরে এই কোর্টেই নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন। এ বারও বিশাল অভিজ্ঞতা নিয়ে নামলেও, রাফায়েল নাদালের সামনে তাঁরই শিষ্য আলকারাজ়কে হারাতে পারলেন না।
আগামী বছর আবার কি ফিরবেন? জোকোভিচ সোজাসাপটা বললেন, “ছয় মাস বা এক বছর পর আমি কেমন থাকব জানি না। এত বছর ধরে এখানে আসছি। এ বারও যে পুরস্কার মঞ্চে থাকতে পেরেছি, তার কৃতিত্ব দর্শকদের। আপনারাই আমাকে এগিয়ে যেতে শক্তি দেন।” কথার ফাঁকে মজাও করলেন। বোঝালেন—টেনিসে তাঁর আর কিছু প্রমাণ করার নেই।
দর্শকাসনে বসে থাকা নাদালও নজর এড়ায়নি। তাঁর দিকে তাকিয়ে জোকোভিচ হাসতে হাসতে বললেন, “তোমাকে ওখানে নয়, উল্টো দিকের কোর্টে দেখতে অভ্যস্ত আমি। আজ আমাকে যেন দু’জন স্প্যানিশ কিংবদন্তির বিরুদ্ধে খেলতে হল!” রসিকতার আড়ালেও ছিল পারস্পরিক সম্মান।
নিজের খেলায় তিনি সন্তুষ্ট। বললেন, “আলকারাজ় বা সিনারের মতো খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে নামলে নিজের উপর বিশ্বাস রাখতেই হয়। সত্যি বলতে, আর একটা গ্র্যান্ড স্ল্যামের পুরস্কার অনুষ্ঠানে থাকতে পারব ভাবিনি।”
৩৮ বছর বয়সে এসেও জোকোভিচ কেবল খেলছেন না—তিনি উদাহরণ তৈরি করছেন। নাদাল-ফেডেরারের যুগ পেরিয়ে টেনিস যে নতুন অধ্যায়ে ঢুকেছে, সেখানে তিনি সেতু। তরুণদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে দেখাচ্ছেন, বয়স সংখ্যা মাত্র। অবসরের আগে তিনি যেন খেলাটাকেই সাজিয়ে-গুছিয়ে তুলে দিচ্ছেন আগামী প্রজন্মের হাতে। হারেও তাই জোকোভিচ—প্রেরণার আর এক নাম।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা