জোকোভিচ বিদায়, শিয়নটেক এগোলেন!
ফরাসি ওপেনে আরও এক বড় অঘটনের সাক্ষী থাকল টেনিস বিশ্ব। টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হল ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী নোভাক জোকোভিচকে। ব্রাজিলের তরুণ তারকা জোয়াও ফনসেকার বিরুদ্ধে দু’সেট এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত পাঁচ সেটের লড়াইয়ে হার মানলেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি।
ম্যাচের শুরুতে দারুণ ছন্দে ছিলেন জোকোভিচ। প্রথম দুই সেট ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে জিতে তিনি এগিয়ে যান। কিন্তু এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ফনসেকা। দুরন্ত লড়াই করে পরের তিনটি সেট ৬-৩, ৭-৫ এবং ৭-৫ ব্যবধানে জিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ম্যারাথন ম্যাচ নিজের নামে করে নেন তিনি।
এই হার জোকোভিচের ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্নকে আরও পিছিয়ে দিল। বিশেষ করে কার্লোস আলকারাজ় চোটের কারণে এবং ইয়ানিক সিনার অসুস্থতার জন্য আগেই ছিটকে যাওয়ায়, এ বার শিরোপা জয়ের বড় সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। তবে বয়সের প্রভাব যে ধীরে ধীরে তাঁর খেলায় পড়ছে, এই ম্যাচে সেটাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, মহিলাদের এককে নির্ভার জয় তুলে নিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে পৌঁছে গিয়েছেন চার বারের চ্যাম্পিয়ন ইগা শিয়নটেক। পোল্যান্ডের এই তারকা ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়েছেন ম্যাগডা লিনেটকে। সুরকির কোর্টে তাঁর অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস আবারও চোখে পড়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন শিয়নটেক। প্রথম সেটেই তিন বার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভেঙে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান। লিনেট কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত শিয়নটেকের সামনে টিকতে পারেননি। মাত্র ৮৫ মিনিটে ম্যাচ শেষ করে তিনি শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেন। পরের রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ ইউক্রেনের মার্তা কস্তিয়ুক।
তবে শুক্রবার শুধু খেলার জন্য নয়, দু’টি বিতর্কের কারণেও আলোচনায় ছিল রোলাঁ গারোঁ।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে মহিলাদের ডাবলসে। তুরস্কের জ়েনেপ সোনমেজ় একটি বল ফেরানোর সময় বেসলাইনের পিছনে থাকা বিজ্ঞাপনী বোর্ডে সজোরে ধাক্কা খান। গুরুতর চোট পেয়ে কোর্টেই যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন তিনি। চিকিৎসকরা চেষ্টা করলেও ম্যাচ চালিয়ে যেতে পারেননি। পরে তাঁকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। এই ঘটনার পর কোর্টের এত কাছে বিজ্ঞাপনী বোর্ড রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমর্থক ও বিশেষজ্ঞরা।
দ্বিতীয় বিতর্কটি তৈরি হয়েছে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড় আদলফো ভায়েজোর মন্তব্য ঘিরে। দ্বিতীয় রাউন্ডে হারের পর তিনি ম্যাচ পরিচালনাকারী মহিলা আম্পায়ার আনা কার্ভালহোকে উদ্দেশ করে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এমন ম্যাচ পরিচালনার জন্য পুরুষ আম্পায়ার প্রয়োজন।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই টেনিস মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নিজের পরাজয়ের দায় আম্পায়ারের উপর চাপানোর চেষ্টা কেন? সামাজিক মাধ্যমেও ভায়েজোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
সব মিলিয়ে শুক্রবারের ফরাসি ওপেন ছিল চমক, নাটক এবং বিতর্কে ভরপুর এক দিন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?