টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিতের বিরুদ্ধে আদালতে অবমাননা!
শিয়ালদহ কোর্টে চলমান আরজি কর-কাণ্ডের মামলায় বুধবার হাজিরা দিলেন টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিত মণ্ডল। তবে তার হাজিরায় দেরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন নির্যাতিতার পরিবার। পরিবারের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, জামিন পাওয়ার পর থেকে একবারও তিনি আদালতে হাজির হননি, যা আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করা।
২০১৯ সালের আরজি কর-কাণ্ডের মামলায় সিবিআই অভিযুক্ত টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিত মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল। পরে তিনি জামিন পেয়ে বের হয়ে আসেন, কিন্তু তারপর থেকে আদালতে উপস্থিত হননি। আদালতের নির্দেশে বুধবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ হাজির না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
নির্যাতিতার পরিবার দাবি করেছে, “অভিজিত মণ্ডল জামিন পাওয়ার পর থেকে একবারও আদালতে হাজির হননি। এমনকি আদালত তাঁকে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেও, তিনি সঠিক সময়ে উপস্থিত হননি, যা আদালতের অবমাননা।” অবশেষে, দুপুরের পরে তিনি আদালতে উপস্থিত হন এবং তার হাজিরা নথিভুক্ত করা হয়।
বিচারকের কাছে অভিজিতকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কেন তিনি দেরি করে আদালতে হাজির হয়েছেন, এবং তাঁর বাড়ির অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য জানতে চাওয়া হয়। এর পর তাঁর হাজিরা নথিভুক্ত করা হয় এবং আদালত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়।
অভিজিতের মতো আরও এক অভিযুক্ত, হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষও এই মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে অন্য একটি মামলায় জেলে থাকায় তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। সিবিআই জানিয়েছে, সন্দীপ এবং অভিজিতের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন ৯ আগস্ট, যখন চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়, তখন সন্দীপ এবং অভিজিতের মধ্যে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাপক যোগাযোগ হয়েছিল। বেশ কিছু সন্দেহজনক নম্বরে একাধিকবার কথা বলা হয়েছিল।
সিবিআই-এর তদন্তে এই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে শেষমেশ জামিন পেয়েও তাঁরা আদালতে যথাসময়ে হাজির না হওয়ায়, নির্যাতিতার পরিবার উদ্বিগ্ন ও অসন্তুষ্ট। আদালত ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
মুর্শিদাবাদে ধীরে ধীরে স্বস্তির হাওয়া, ঘরছাড়াদের ফেরাতে প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগ