হাওড়ায় রাস্তার নাম পরিবর্তন
হাওড়া শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম এবার বদলানো হলো। হাওড়া শহরের ডুমুরজলা হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড সংলগ্ন ড্রেনেজ ক্যানাল রোডের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াত ফুটবলার শৈলেন মান্নার নামে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শৈলেন মান্নার নামে রাস্তার নতুন নামকরণের পাশাপাশি, রাস্তার দু’পাশে সৌন্দর্যায়ন করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব মেদিনীপুরে যাওয়ার আগে হাওড়ার ডুমুরজলা হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে জেলা প্রশাসক পি দীপক প্রিয়াকে এই নির্দেশ দেন। তিনি জানান, “হাওড়ার সন্তান শৈলেন মান্নার নামে এই শহরে এখনও কোনো রাস্তা ছিল না, তাই ড্রেনেজ ক্যানাল রোডের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাস্তার সৌন্দর্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং রাস্তার পাশে কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দোকানও তৈরি করা হবে।
শৈলেন মান্নার নামে ফলক উন্মোচনের সিদ্ধান্তটি এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ফিরেই মুখ্যমন্ত্রী এই ফলক উন্মোচন করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ২০১৭ সালে এই রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল কলকাতার প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ভোলানাথ চক্রবর্তীর নামে। সেই সময়ে হাওড়ার মেয়র ছিলেন ভোলানাথ চক্রবর্তীর পুত্র, চিকিৎসক রথীন চক্রবর্তী। তবে বর্তমানে রথীন চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই কারণে রাস্তার নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চর্চা শুরু হয়েছে।
তৎকালীন মেয়র রথীন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ওই রাস্তার নামকরণ মেয়র পরিষদের বৈঠকে করা হয়েছিল। এটি আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছায় হয়নি। শৈলেন মান্নারের নামে তো একটি স্টেডিয়াম রয়েছে। ভোলানাথ চক্রবর্তীর নামে ছিল একমাত্র এই রাস্তা। তাহলে এই নাম পরিবর্তন কি খুবই জরুরি ছিল?”
কোনা এক্সপ্রেসওয়ের কাছে অবস্থিত ড্রেনেজ ক্যানাল রোড হাওড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। তৃণমূল পুরবোর্ডের সময় এই রাস্তার মুখে একটি বিশাল তোরণ তৈরি করা হয়েছিল, যার ওপর ভোলানাথ চক্রবর্তী সরণি লেখা ছিল। তবে, গত দুই বছর ধরে ওই নামটি মুছে ফেলা হয়েছে এবং তোরণের দু’টি কোণে শুধু ভোলানাথ চক্রবর্তীর ছবি স্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া, তোরণের বাকি অংশে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ও সরকারি প্রকল্পের নাম লেখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে ডুমুরজলা হেলিপ্যাডে যাওয়ার পথে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেছিলেন। সেখানে তিনি জেলাশাসক এবং নগরপালের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “আমি জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, এই রাস্তার নাম পাল্টে শৈলেন মান্না রোড করতে হবে। রাস্তার সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি, কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দোকানও তৈরি হবে।”
এরপর হাওড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন সুজয় চক্রবর্তীর সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলা প্রশাসক ও নগরপাল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সুজয় চক্রবর্তী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ওই রাস্তার নাম শৈলেন মান্নার নামে করতে হবে। এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং রাস্তা মেরামতের জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।”
এই পদক্ষেপে শহরের পরিবেশ উন্নত হবে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন সুবিধা সৃষ্টি হবে, এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।