হলুদ মাখন না সাদা মাখন? আইসিএমআরের সতর্কবার্তা, কী খাবেন আপনি?

হলুদ মাখন না সাদা মাখন? আমরা অনেকেই প্রতিদিনের খাবারে মাখন ব্যবহার করি—পরোটা, টোস্ট, ওমলেট কিংবা কফিতেও। বেশিরভাগ মানুষ দোকানে পাওয়া হলুদ রঙের টেবল বাটারই খেয়ে থাকেন। কিন্তু ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ…

February 16, 2025
1 min read

হলুদ মাখন না সাদা মাখন?

আমরা অনেকেই প্রতিদিনের খাবারে মাখন ব্যবহার করি—পরোটা, টোস্ট, ওমলেট কিংবা কফিতেও। বেশিরভাগ মানুষ দোকানে পাওয়া হলুদ রঙের টেবল বাটারই খেয়ে থাকেন। কিন্তু ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) সম্প্রতি এই মাখনকে ‘অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার’ (Ultra-Processed Food) বলে সতর্ক করেছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এখন প্রশ্ন উঠছে—হলুদ মাখনের বদলে কি সাদা মাখন বা ঘি বেছে নেওয়া উচিত?


🔎 ‘অতিপ্রক্রিয়াজাত’ খাবার কী এবং কেন ক্ষতিকর?

যে খাবার বেশি পরিমাণে কারখানায় তৈরি হয়, তাতে সংরক্ষণকারী রাসায়নিক, কৃত্রিম রং, স্বাদবর্ধক ও ইমালসিফায়ার থাকে। এসব উপাদান:
❌ পুষ্টিগুণ নষ্ট করে
❌ ফাইবার কমিয়ে ফেলে
❌ চিনি, নুন ও স্নেহপদার্থের পরিমাণ বাড়ায়
❌ হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে

ICMR-এর মতে, দোকানের হলুদ মাখনেও এসব অতিরিক্ত রাসায়নিক যোগ করা হয়, যা হার্ট, লিভার ও বিপাকক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


🥛 তাহলে কোন মাখন খাবেন?

পুষ্টিবিদদের মতে, দোকানের টেবল বাটারের বদলে বাড়িতে তৈরি সাদা মাখন বা ঘি খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণ:

✅ ঘি:
🔹 গরুর দুধের সর থেকে তৈরি হয়
🔹 প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষণ করা যায়
🔹 ভালো ফ্যাট (HDL) বাড়ায়, যা হার্টের জন্য ভালো

✅ সাদা মাখন (ননী):
🔹 দুধ মন্থন করে বাড়িতে তৈরি করা হয়
🔹 কোনো রাসায়নিক সংযোজন থাকে না
🔹 শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করে


💪 সাদা মাখনের উপকারিতা

পুষ্টিবিদ শিল্পা অরোরা বলছেন, সাদা মাখনে থাকা পুষ্টিগুণ হলুদ মাখনের তুলনায় অনেক বেশি:

✔️ ভিটামিন A, D, E, K: দৃষ্টিশক্তি, হাড় ও ত্বকের জন্য ভালো
✔️ ক্যালসিয়াম: হাড় ও দাঁতের গঠনে সাহায্য করে
✔️ আয়োডিন: থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে
✔️ গুড কোলেস্টেরল (HDL): হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা করে

পুষ্টিবিদ শ্রুতি ভরদ্বাজ যোগ করেছেন, সাদা মাখনে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট হলুদ মাখনের তুলনায় কম, যা শরীরের জন্য নিরাপদ।


🤔 তবে কতটুকু মাখন খাওয়া নিরাপদ?

🔹 অতিরিক্ত মাখন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
🔹 পুষ্টিবিদদের মতে, দিনে ১-২ চা চামচ মাখন বা ঘি যথেষ্ট।
🔹 অম্বল বা হজমের সমস্যা থাকলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

হজম বিশেষজ্ঞ ড. পবন রাওয়াল বলেছেন, সাদা মাখনে ল্যাকটোজের পরিমাণ কম থাকায় দুধ হজমে সমস্যা হয় এমন ব্যক্তিরাও এটি খেতে পারেন।


🏠 বাড়িতে কীভাবে বানাবেন সাদা মাখন?

রন্ধনশিল্পী তরলা দলাল বাড়িতে মাখন তৈরির সহজ উপায় জানিয়েছেন:

✅ প্রথম ধাপ: প্রতিদিন ১ লিটার ফ্যাটযুক্ত দুধ ফোটান ও সর তুলে রাখুন
✅ দ্বিতীয় ধাপ: দুই সপ্তাহ সর সংগ্রহ করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন
✅ তৃতীয় ধাপ: সর ফ্রিজ থেকে বের করে হ্যান্ড ব্লেন্ডারে ফেটান
✅ চতুর্থ ধাপ: কিছুক্ষণ ফেটানোর পর যে সাদা স্তর উপরে ভাসবে, সেটাই মাখন

এভাবে তৈরি সাদা মাখন ১-২ মাস ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়।


✅ উপসংহার

ICMR-এর মতে, দোকানের হলুদ মাখন নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। বরং বাড়িতে তৈরি সাদা মাখন ও ঘি অনেক বেশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর। তবে সংযমের সঙ্গে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো পন্থা। তাই যদি সুস্থ থাকতে চান, তাহলে আজই দোকানের হলুদ মাখনের বদলে ঘরোয়া সাদা মাখন বা ঘি বেছে নিন!

একদিনেই ২০ লাখ অনুগামী হারালেন! বিতর্কের কেন্দ্রে ইউটিউবার রণবীর ইলাহাবাদিয়া, কত আয় করেন তিনি?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *