হরমুজ় প্রণালী নিয়ে নতুন উত্তেজনা, ট্রাম্পের শর্তেই ক্ষুব্ধ ইরান—আবার বন্ধের হুঁশিয়ারি

হরমুজ় প্রণালী নিয়ে নতুন উত্তেজনা! মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী ঘিরে আবারও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরান ঘোষণা করেছিল যে এই প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি…

April 18, 2026
1 min read

হরমুজ় প্রণালী নিয়ে নতুন উত্তেজনা!

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী ঘিরে আবারও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরান ঘোষণা করেছিল যে এই প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে, অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি ঘুরে যায় নতুন মোড়ে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়ে দেন, প্রয়োজন হলে আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার বিষয়ে একের পর এক “ভুয়ো তথ্য” ছড়াচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

শুক্রবার লেবানন-ইজ়রায়েল সংঘর্ষবিরতির ঘোষণার পর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, আপাতত সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয় বলেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়। বলা হয়, সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ যত দিন থাকবে, তত দিনই এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। এই ঘোষণার পর ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে একে “বিশ্বের জন্য ভালো দিন” বলে মন্তব্য করেন।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় ট্রাম্পের নতুন শর্ত ঘোষণার পর। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ও লেনদেন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বজায় থাকবে। এই অবস্থানকেই ইরান “অন্যায় ও উসকানিমূলক” বলে আখ্যা দিয়েছে। কালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র চাপ বজায় রাখে, তবে হরমুজ় প্রণালী খোলা রাখার বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করা হবে।

হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই যায়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী আরও জানিয়েছে, যদিও প্রণালী খোলা রয়েছে, তবে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে এবং তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই জাহাজ চলাচল করতে হবে।

এছাড়াও ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে “শত্রু দেশের” জাহাজগুলির উপর কড়া নজর রাখা হবে এবং প্রয়োজনে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে। যদিও বিদেশমন্ত্রী আরাঘচির ঘোষণায় এমন কড়া অবস্থানের সরাসরি উল্লেখ ছিল না, ফলে পরিস্থিতি আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এই দ্বন্দ্বের ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলির মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক জাহাজ এখন এই রুট ব্যবহার করা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দামেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে হরমুজ় প্রণালী ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে, আর ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইরানের প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *