হরমুজ়ে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার পরই পাল্টা আঘাত!
পশ্চিম এশিয়ায় ফের উত্তেজনার পারদ চড়ল। মার্কিন বাহিনীর একাধিক হামলার জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। ফলে কয়েক দিন ধরে চলা সংঘর্ষবিরতির সম্ভাবনা কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। হরমুজ় প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনার একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের একটি ড্রোন হামলার জেরেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, হামলার লক্ষ্য ছিল কেবল সামরিক অবকাঠামো, কোনও অসামরিক এলাকা নয়।
অন্য দিকে, ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাস্ক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ এবং সিরিক-সহ দক্ষিণ ইরানের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা পূর্ণ মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, তেহরান কোনও আক্রমণের জবাব না দিয়ে বসে থাকবে না। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে কোনও পদক্ষেপের উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
শুধু বক্তব্যেই নয়, বাস্তবেও পাল্টা আঘাতের দাবি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা বাহরিনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, মার্কিন ‘আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সংঘাত এমন এক সময়ে নতুন মোড় নিল, যখন গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছিল। হরমুজ় প্রণালী, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ, সেই অঞ্চলকে ঘিরেই উত্তেজনা সবচেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জলপথে সামরিক সংঘাত আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং তেল সরবরাহের উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে শুধু আমেরিকা ও ইরান নয়, গোটা বিশ্বের নজর এখন পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির উপর।
বর্তমানে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। এক দিকে মার্কিন বাহিনী নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযান চালানোর কথা বলছে, অন্য দিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?