হরমুজ়ে উত্তেজনা, তবু নরম সুরে ভারত!
পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী-তে ফের উত্তেজনা। ইরানের সেনাবাহিনী ভারতীয় দুই পণ্যবাহী জাহাজে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এত বড় ঘটনা সত্ত্বেও ভারতের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে ‘নরম’— কড়া পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক সতর্কবার্তা। প্রশ্ন উঠছে, কেন এমন অবস্থান নিচ্ছে নরেন্দ্র মোদী-র সরকার?
এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে কেবল কূটনীতিতে নয়, বরং অর্থনীতি, ভূ-রাজনীতি এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক পরিকল্পনায়।
🚢 বাণিজ্যের ‘লাইফলাইন’ ইরান
ভারতের জন্য ইরান শুধুই একটি দেশ নয়, বরং মধ্য এশিয়া ও ইউরোপে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দরজা। পাকিস্তানের কারণে স্থলপথে সরাসরি ওই অঞ্চলে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। তাই বিকল্প রুট হিসেবে ভরসা রাখতে হচ্ছে ইরানকে।
বিশেষ করে চাবাহার বন্দর ভারতের কাছে অত্যন্ত কৌশলগত সম্পদ। এই বন্দর ব্যবহার করে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য চালানো যায়— পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে।
🌐 বড় প্রকল্পে ইরানের ভূমিকা
ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের দুটি বড় প্রকল্প—
- ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর
- ইন্ডিয়া-মিডল-ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডর
এই দুই প্রকল্পই কোনও না কোনওভাবে ইরানের উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে INSTC-র ক্ষেত্রে মুম্বই থেকে রাশিয়া পর্যন্ত পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে চাবাহার বন্দরই মূল কেন্দ্র।
অর্থাৎ, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে এই বিশাল বাণিজ্যিক পরিকল্পনাগুলি বড় ধাক্কা খেতে পারে।
⚖️ কৌশলগত ভারসাম্যের খেলা
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েল, অন্যদিকে ইরান— এই সংঘাতে সরাসরি কোনও পক্ষ নেওয়া ভারতের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ।
ভারত তাই ‘স্ট্র্যাটেজিক ব্যালান্স’ বজায় রাখতে চাইছে—
- একদিকে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা
- অন্যদিকে ইরানকেও অসন্তুষ্ট না করা
এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য।
🛢️ জ্বালানি ও নিরাপত্তা ফ্যাক্টর
হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বা অস্থির হলে ভারতের জ্বালানি আমদানিও বড় ধাক্কা খেতে পারে। ফলে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা মানে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।
🤝 কেন ‘বকাঝকা’তেই সীমাবদ্ধ?
সব দিক মিলিয়ে স্পষ্ট— ভারতের এই নরম অবস্থান আসলে দুর্বলতা নয়, বরং হিসেবি কূটনীতি।
ইরানকে পুরোপুরি বিরোধী শিবিরে ঠেলে দিলে ক্ষতি ভারতেরই বেশি।
তাই আপাতত নয়াদিল্লি সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে আলোচনার পথেই এগোতে চাইছে। ভবিষ্যতের বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য— এই তিনের সমীকরণেই লুকিয়ে রয়েছে ভারতের এই সংযত প্রতিক্রিয়ার আসল কারণ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?