হরমুজ়ে টানাপোড়েন: তেহরানের তুরুপ কি ফুরোল, নাকি আমেরিকার পাল্টা চালেই বাড়ছে চাপ?

হরমুজ়ে টানাপোড়েন! ইসলামাবাদে ব্যর্থ শান্তি বৈঠকের পর আবারও মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে শক্তির লড়াই। একদিকে ইরান, অন্যদিকে…

April 14, 2026
1 min read

হরমুজ়ে টানাপোড়েন!

ইসলামাবাদে ব্যর্থ শান্তি বৈঠকের পর আবারও মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে শক্তির লড়াই। একদিকে ইরান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণে মরিয়া। ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ বাড়ছে জ্বালানি সরবরাহ এবং নিরাপত্তা নিয়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের কৌশলে কিছু ফাঁক দেখা যাচ্ছে। হরমুজ় প্রণালী অবরোধের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানোই তার অন্যতম উদাহরণ। শান্তি আলোচনার সময় ওই জলপথ দিয়ে মার্কিন রণতরীর যাতায়াত অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয়। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে—সংঘর্ষ আরও বাড়লে আদৌ কতটা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে তেহরান?

এতদিন সরাসরি যুদ্ধের বদলে কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করেই এগোচ্ছিল ইরান। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে চাপ সৃষ্টি করা ছিল তাদের অন্যতম বড় অস্ত্র। এতে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির উপর প্রভাব পড়েছিল।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা আরও জোরদার করছে। এমনকি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দরগুলিকেও লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। এতে সংঘর্ষের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।

অন্যদিকে, ইরানের এই পদক্ষেপে বিরক্ত পশ্চিম এশিয়ার একাধিক আরব দেশ। কারণ, হরমুজ় বন্ধ থাকলে তাদের তেল রফতানিতে বড় ধাক্কা লাগে। ভারত, চিন, জাপান কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলিও সমস্যায় পড়ছে। ফলে বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা শুরু হয়েছে জোরকদমে।

এই বিকল্পের মধ্যে রয়েছে ওমানের মুসানদাম উপদ্বীপে নতুন খাল নির্মাণের পরিকল্পনা। যদিও এই প্রকল্প অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। পাহাড় কেটে খাল তৈরি করা সহজ নয়, পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও রয়েছে। তাই বাস্তবায়নে সময় লাগবে বহু বছর।

এর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজ়াইরাহ বন্দর এবং সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনও বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই সৌদি আরব এই পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ বাড়িয়েছে। ফলে হরমুজ়ের উপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের হাতে এখনও সব তাস শেষ হয়ে যায়নি। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে তারা পাল্টা আঘাত হানতে পারে। ফলে পরিস্থিতি যে কোনও সময় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ় প্রণালী এখন শুধু একটি জলপথ নয়—এটি হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপর নির্ভর করবে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক সমীকরণ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *