বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না অস্ট্রেলিয়ার গতি-তারকাকে
অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর ঘোষণা করেছেন। টেস্ট এবং এক দিনের ক্রিকেটে আরও মনোযোগ দেওয়ার জন্যই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৫ বছরের এই বোলার। তাঁর এই ঘোষণা আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার দলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, কারণ দলের জোরে বোলিং আক্রমণে স্টার্ক সবসময়ই ছিলেন ভরসার নাম।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে স্টার্কের শেষ ম্যাচ ছিল গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই। এরপর তিনি আর এই ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে নামেননি। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতের মাটিতে এবং শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। সেই টুর্নামেন্টের ছয় মাস আগে অবসরের সিদ্ধান্তে ক্রিকেট মহলে খানিকটা বিস্ময়ের সঞ্চার হলেও স্টার্কের যুক্তি স্পষ্ট—টেস্ট ক্রিকেট ও বড় টুর্নামেন্টগুলির জন্য নিজেকে সতেজ ও ফিট রাখা।
স্টার্ক বলেন, “টেস্ট ক্রিকেট বরাবরই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে টি-টোয়েন্টি দলে যেসব ম্যাচ খেলেছি, সেগুলোর প্রতিটি আমি উপভোগ করেছি। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতি আমার জীবনের অন্যতম সেরা। শুধু ট্রফি জেতার কারণে নয়, সেই দলের সঙ্গের জন্যও এই অভিজ্ঞতা অবিস্মরণীয়।”
অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের অন্যতম স্তম্ভ স্টার্ক ব্যাখ্যা করেছেন কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন। তাঁর কথায়, “ভারতের মাটিতে সামনে টেস্ট সিরিজ রয়েছে, এরপর অ্য়াশেজ এবং ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপও আছে। এতগুলো বড় সিরিজ ও টুর্নামেন্টের জন্য ফিটনেস ধরে রাখতে এখন থেকেই নিজের শরীরকে সঠিকভাবে ম্যানেজ করা দরকার।”
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে স্টার্কের পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য। ৬৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি শিকার করেছেন ৭৯টি উইকেট। প্রতি ওভারে গড়ে দিয়েছেন মাত্র ৭.৭৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনিই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি, তাঁর ওপরে রয়েছেন শুধু স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মধ্যে পাঁচটিতে খেলেছেন তিনি। চোটের কারণে কেবল ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে নামতে পারেননি।
বিশেষ করে ২০২১ সালে দুবাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন স্টার্ক। তাঁর আগ্রাসী বোলিং ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স সেই সাফল্যের বড় কারণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর উপস্থিতি সবসময়ই প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের ছিল, আর এখন টেস্ট ও এক দিনের ক্রিকেটে সেই ধার আরও ধারালো করতে মনোযোগী হতে চান তিনি।
স্টার্কের এই অবসর ঘোষণার পর অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নতুন পেস আক্রমণ গড়ে তুলতে হবে। যদিও ভক্তরা হতাশ, কারণ এই ফরম্যাটে তাঁর ঝড় তোলা স্পেলগুলো আর দেখা যাবে না, তবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে স্টার্কের অবদান অমলিন থেকে যাবে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ