স্কুল চলাকালীন ঢাকার স্কুলে বিমান ভেঙে পড়ল!
ঢাকার আকাশে আচমকা গর্জে উঠেছিল একটি যুদ্ধবিমানের শব্দ। সাধারণ দিনের মতোই ব্যস্ততা চলছিল শহরের উত্তরার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে। ছাত্রছাত্রীরা তখন ক্লাসে ব্যস্ত, কেউ হয়তো খেলার মাঠে, কেউবা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। আর ঠিক তখনই ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা—বাংলাদেশ বায়ুসেনার একটি বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুল চত্বরে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই নেমে আসে হাহাকার।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকালে। বাংলাদেশ বায়ুসেনার একটি প্রশিক্ষণ বিমান (F-7) কুর্মিটোলা এলাকার কাছাকাছি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। জানা গিয়েছে, পাইলট সময়মতো ইজেক্ট করতে সক্ষম হলেও বিমানটি গিয়ে সোজা ধাক্কা মারে স্কুল চত্বরে। যদিও কোনো ছাত্র বা শিক্ষক প্রাণ হারায়নি, তবুও আহতদের সংখ্যা কম নয়। অন্তত ছ’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আতঙ্কে ছুটোছুটি
বিমানটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্কুলে ছুটোছুটি পড়ে যায়। শিক্ষকেরা চিৎকার করে ছাত্রছাত্রীদের বাইরে নিয়ে যেতে বলেন। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। স্কুলের সামনের দেয়াল ভেঙে যায়, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে আশেপাশের লোকজন দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘‘প্রথমে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প বা বড় কোনো বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে দেখলাম, স্কুলে আগুন আর ধোঁয়া।’’ স্কুলের এক অভিভাবক বলেন, ‘‘আমার মেয়ে তখন ক্লাসে ছিল। ফোনে খবর পেয়েই ছুটে এসেছি। এখনও কাঁপছি।’’
প্রশাসনের তৎপরতা
ঘটনার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল। পুলিশ কর্ডন করে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই বিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই উড়েছিল।
বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।
প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—স্কুল বা জনবহুল এলাকার উপর দিয়ে যুদ্ধবিমান ওড়ানো কতটা নিরাপদ? দুর্ঘটনাটি আরও কয়েক সেকেন্ডের জন্য দেরি হলে প্রাণহানির সংখ্যা হয়তো ভয়াবহ রূপ নিত। অভিভাবকরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “স্কুলের এত কাছে প্রশিক্ষণ বিমান চালানো কেন?”
অনেকেই বলছেন, এই দুর্ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল শহরের মাঝখানে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবে প্রশাসন।
সৌভাগ্য না দুর্ঘটনার শিক্ষা?
যদিও এই দুর্ঘটনায় বড়সড় প্রাণহানি হয়নি, তবুও এটিকে ‘সৌভাগ্য’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। বরং, এটি একটি সতর্কবার্তা—নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষত যেখানে ছোট ছোট শিশুরা রয়েছে, সেখানে এমন ঝুঁকি যেন আর না আসে, সে দায়িত্ব প্রশাসনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীরও।
একটুর জন্য ভয়াবহ ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পাওয়া এই ঘটনা হয়তো আগামী দিনের নিরাপত্তা নীতিতে বড় রদবদলের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে আপাতত, ঢাকা কেঁপে উঠেছে এই আকস্মিক আঘাতে—যেখানে মাটি আর আকাশের মাঝে তাল হারিয়ে গেল নিরপরাধ নিরাপত্তা।
রান্নাঘরের ধোঁয়ার গন্ধ যাচ্ছে না? ঘরোয়া উপায়ে দূর করুন এই অসুবিধা