কিন্তু চার্জ দেওয়া নয় কেন?
বিমান ভ্রমণের সময় হাতে ছোটখাটো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট রাখাটা এখন সবার অভ্যাস। মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ বা ইয়ারফোন—সবই থাকে হাতব্যাগে। আর সেই সঙ্গে থাকে পাওয়ার ব্যাঙ্কও। নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা হাতে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বহন করতে পারেন ঠিকই, তবে আকাশে উড়তে উড়তে সেই পাওয়ার ব্যাঙ্ক দিয়ে মোবাইল চার্জ দেওয়া অনেক সময়েই নিষিদ্ধ থাকে। প্রশ্ন ওঠে, কেন এমন নিয়ম?
আসলে পাওয়ার ব্যাঙ্কের ভেতরে থাকে লিথিয়াম আয়ন বা লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। এই ব্যাটারিগুলো সাধারণ অবস্থায় সুরক্ষাবর্মে থাকে এবং নির্দিষ্ট সার্কিট দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবাহিত করে। ঘরে বা ট্রেনে এগুলো ব্যবহার করা তুলনামূলক নিরাপদ হলেও বিমানের পরিবেশ আলাদা। আকাশে যখন বিমান ভেসে চলে ৩৫ হাজার ফুট বা তারও বেশি উচ্চতায়, তখন বাতাসের চাপ নেমে যায়। এর ফলে ব্যাটারির ভেতরের গ্যাস প্রসারিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সামান্য ত্রুটিতেই শর্ট সার্কিট বা রাসায়নিকের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা বিস্ফোরণ পর্যন্ত ডেকে আনতে সক্ষম।
শুধু চাপের তারতম্যই নয়, বিপদ লুকিয়ে থাকে তাপমাত্রার ওঠানামাতেও। বিমান ওঠা বা নামার সময় তাপমাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। যদি সেই সময় লিথিয়াম ব্যাটারি তেতে ওঠে এবং রাসায়নিকের ভারসাম্য বিগড়ে যায়, তবে ছোট্ট পাওয়ার ব্যাঙ্ক থেকেও ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিমানের ভেতরে পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহার করে সরাসরি চার্জ দেওয়ার নিয়ম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
হাতব্যাগে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বহনের অনুমতি থাকলেও চেক-ইন লাগেজে তা রাখা যায় না। কারণ, চেক-ইন লাগেজ বিমানের কার্গো অংশে রাখা হয়, যেখানে যাত্রীদের তাৎক্ষণিক নজরদারি সম্ভব নয়। কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা সামলানোও কঠিন। তাই কেবল হাতব্যাগেই পাওয়ার ব্যাঙ্ক নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে সব বিমান সংস্থার নিয়ম এক নয়। কোনো কোনো সংস্থা নির্দিষ্ট ধরণের পাওয়ার ব্যাঙ্ক দিয়ে একবার মাত্র চার্জ দেওয়ার অনুমতি দিলেও, অধিকাংশ সংস্থাই সরাসরি চার্জ দেওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে রেখেছে। আবার আন্তর্জাতিক উড়ানে প্লাগ পয়েন্টের সুবিধা থাকলেও, সেখানেও কড়া নিয়ম মেনে চার্জ দিতে হয়।
আরও একটি বিষয় খেয়ালযোগ্য—সব পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিমান ভ্রমণে অনুমোদিত নয়। সাধারণত ১০০ ওয়াট-আওয়ার (Wh) ক্ষমতার মধ্যে হলে তা বহন করা যায়। এর চেয়ে বেশি ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাঙ্ক নিতে হলে বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হয়।
সব মিলিয়ে নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই নিয়ম করা হয়েছে। বিমান ভ্রমণে ঝুঁকি এক মুহূর্তের গাফিলতিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার রূপ নিতে পারে। তাই পাওয়ার ব্যাঙ্ক সঙ্গে রাখার অনুমতি থাকলেও সেটি ব্যবহার করে বিমানে চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে এত বিধিনিষেধ মানতে হয় যাত্রীদের।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ