সৌদি আরবের অনুরোধে বিশ্বকাপে বিশেষ নিয়ম!
বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। অন্যান্য দেশের মতো সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা ম্যাচের আগে মাঠে বিছিয়ে রাখা হচ্ছে না। দেশটির অনুরোধ মেনে বিশেষ ব্যবস্থা করেছে FIFA।
সাধারণত আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় ম্যাচ শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী দুই দেশের বিশাল আকৃতির জাতীয় পতাকা মাঠে টানটান করে বিছিয়ে প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু সৌদি আরবের ক্ষেত্রে সেই প্রচলিত প্রথা থেকে সরে এসেছে ফিফা। তাদের পতাকা মাটিতে না রেখে বিশেষভাবে উঁচুতে ধরে বা ঝুলিয়ে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এর পিছনে রয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কারণ। সৌদি আরবের জাতীয় পতাকায় আরবি ভাষায় লেখা রয়েছে ‘শাহাদাহ’— ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ঘোষণা। মুসলিমদের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র একটি বাণী। পতাকার নিচে একটি তলোয়ারের প্রতীকও রয়েছে, যা দেশটির ঐতিহ্যের অংশ।
সৌদি সরকারের দীর্ঘদিনের অবস্থান, এই পবিত্র বাণী-সংবলিত পতাকা কখনও মাটিতে রাখা যাবে না, তার উপর দিয়ে হাঁটা যাবে না এবং এমন কোনও ব্যবহার করা যাবে না, যা ধর্মীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাদের মতে, ‘শাহাদাহ’ লেখা পতাকাকে মাটিতে স্পর্শ করানো বা তার উপর পা পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানতে পারে।
এই কারণেই বিশ্বকাপ আয়োজকদের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিল সৌদি আরব। সেই অনুরোধ গ্রহণ করে ফিফা পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা করেছে।
তবে এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়। অতীতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সরকারি অনুষ্ঠানেও সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা মাটিতে রাখা হয়নি। ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনা করেই বরাবর এই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে সৌদি আরবই একমাত্র দল, যার জাতীয় পতাকার ক্ষেত্রে এমন বিশেষ বিধি কার্যকর করা হয়েছে। ফলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি নজিরও তৈরি হল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?