৪০০০ কোটির ‘রামায়ণ’-এ কে কত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন?
নীতেশ তিওয়ারির বহু প্রতীক্ষিত ‘রামায়ণ: পার্ট ১’ এ বছরের দীপাবলিতে মুক্তি পেতে চলেছে। প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বাজেটে দুই ভাগে নির্মিত এই ছবি ইতিমধ্যেই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ প্রজেক্ট হিসেবে আলোচনায়। প্রথম টিজার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের একাংশ তুলনা শুরু করেছেন ১৯৮৭ সালের রামানন্দ সাগরের কালজয়ী ‘রামায়ণ’ ধারাবাহিকের সঙ্গে। শুধু চরিত্র নয়, তারকাদের পারিশ্রমিক নিয়েও চলছে জোর চর্চা।
১৯৮৭ সালে মাত্র ৭ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি হয়েছিল রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’। ৭৮ পর্বের সেই ধারাবাহিক ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাস বদলে দিয়েছিল। অন্যদিকে, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের VFX এবং বিশাল তারকাবহর নিয়ে নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ বিশ্বমানের সিনেমা হিসেবে তৈরি হচ্ছে।
কে কোন চরিত্রে, কত পারিশ্রমিক?
| চরিত্র | ১৯৮৭ সালের অভিনেতা | ২০২৬ সালের অভিনেতা | সম্ভাব্য পারিশ্রমিক |
|---|---|---|---|
| রাম | অরুণ গোবিল | রণবীর কপূর | ₹১৫০ কোটি |
| সীতা | দীপিকা চিখলিয়া | সাই পল্লবী | ₹১২ কোটি |
| রাবণ | অরবিন্দ ত্রিবেদী | যশ | ₹১০০ কোটি |
| লক্ষ্মণ | সুনীল লহরী | রবি দুবে | ₹২–৪ কোটি |
| হনুমান | দারা সিংহ | সানি দেওল | ₹৪০ কোটি |
| দশরথ | বল ধুরি | অরুণ গোবিল | ₹২.৫ কোটি |
| কৈকেয়ী | — | লারা দত্ত | ₹৩ কোটি |
| শূর্পণখা | রেণু ধারীবাল | রকুল প্রীত সিং | ₹১–২ কোটি |
রণবীরই সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত
ছবিতে রামের ভূমিকায় অভিনয় করছেন রণবীর কপূর। খবর অনুযায়ী, তিনি পাচ্ছেন প্রায় ১৫০ কোটি টাকা, যা পুরো ছবির সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক। সম্প্রতি অযোধ্যার একটি রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও হয়েছেন তিনি।
যশের ‘রাবণ’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা
টিজারে দক্ষিণী সুপারস্টার যশের রাবণ রূপ দর্শকদের নজর কেড়েছে। তাঁর ডার্ক লুক এবং অ্যাকশন দৃশ্য ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। এই চরিত্রের জন্য তিনি নাকি নিচ্ছেন ১০০ কোটি টাকা।
সাই পল্লবীর সীতা রূপে প্রশংসার ঝড়
সীতার চরিত্রে সাই পল্লবীর প্রথম ঝলকই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ঐতিহ্যবাহী সাজ, অভিব্যক্তি এবং পর্দার উপস্থিতির জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাঁর পারিশ্রমিক প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে জানা যাচ্ছে।
পুরনো রাম এখন দশরথ
এই ছবির অন্যতম আবেগঘন বিষয় হল, ১৯৮৭ সালের রাম অরুণ গোবিল এবার অভিনয় করছেন রাজা দশরথের চরিত্রে। প্রায় চার দশক পরে একই মহাকাব্যের নতুন প্রজন্মের সংস্করণে তাঁর প্রত্যাবর্তন দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে।
হনুমান, শূর্পণখা ও অন্যান্য চরিত্রও আলোচনায়
সানি দেওলের হনুমান রূপ টিজারে না থাকলেও তাঁর চরিত্র নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। অন্যদিকে, রকুল প্রীত সিংয়ের শূর্পণখা, লারা দত্তের কৈকেয়ী এবং রবি দুবের লক্ষ্মণ— প্রত্যেকেই ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে।
প্রযুক্তি বনাম নস্ট্যালজিয়া
রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’ ছিল সরল উপস্থাপনা ও অভিনয়ের জোরে কিংবদন্তি। নীতেশ তিওয়ারির সংস্করণে থাকছে আন্তর্জাতিক মানের VFX, বৃহৎ অ্যাকশন এবং সিনেম্যাটিক উপস্থাপনা। ফলে দুই প্রজন্মের দর্শকের মধ্যে তুলনা হওয়া স্বাভাবিক হলেও, দুই নির্মাণই ভিন্ন সময় ও ভিন্ন মাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব করে।
এখন দেখার বিষয়, দীপাবলিতে মুক্তির পর নতুন ‘রামায়ণ’ দর্শকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে এবং রামানন্দ সাগরের অমর সৃষ্টি থেকে আলাদা একটি নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয় কি না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।