সন্দীপ্তা সেনের শোকমাখা স্মৃতি!
২৯ মার্চ সন্ধ্যায় টলিপাড়ার সবাইকে স্তম্ভিত করে এমন খবর আসে—রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু। তিনি ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে তালসারিতে গিয়েছিলেন, সেখানে ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। খবর পেয়ে সহ-অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেনের প্রতিক্রিয়া এখনও বিব্রতকর—কেন যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি।
সন্দীপ্তা বলছিলেন, “‘তুমি আসবে বলে’, ‘আয় খুকু আয়’—দুই ধারাবাহিকেই রাহুলের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছি। সেটে থাকলে সবাইকে মাতিয়ে রাখত। এমন আকস্মিক মৃত্যু কিছু বলারই জায়গা রাখে না। এখনও মেনে নিতে পারছি না। এত ভালো লেখে, এত দক্ষ অভিনয় করত, সহ-অভিনেতা হিসেবেও চমৎকার ছিল। সম্প্রতি ওর অভিনীত ‘ঠাকুমার ঝুলি’ও দেখেছি। শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে… সত্যিই অবিশ্বাস্য। কী বলব, ভেবে উঠতে পারছি না। শট দিতে দিতে চলে গেল মানুষটা।’
বড়পর্দায় যেমন রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা সরকারের জুটি নিয়ে তোলপাড় হত, তেমনই ছোটপর্দায় রাহুল-সন্দীপ্তা জুটির জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁদের বন্ধুত্ব নিয়েও আলোচনা চলত। সেই স্মৃতিই এখন সন্দীপ্তার চোখে বারবার ভেসে উঠছে। সহ-অভিনেতার কথা বলতে বলতে গলা ধরে আসে অভিনেত্রীর।
রাহুলের অভিনয় শুধু প্রিয় দর্শকেরই নয়, সহকর্মীদের মধ্যেও স্মরণীয় হয়ে উঠেছিল। ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে গুরুগম্ভীর চিকিৎসকের চরিত্রে তাঁর অভিনয় অল্প দিনের মধ্যে দর্শক মন জয় করেছিল। শ্বেতা মিশ্রের সঙ্গে তার জুটিও আলোচনায় উঠে এসেছিল।
সন্দীপ্তা আরও বলেন, “আমাদের মাঝে অনেক দিন দেখা হয়নি। একসাথে কাজ করার সুযোগও হয়নি মাঝে মাঝে। তাই এই হার আরও কঠিন মনে হচ্ছে। সেটে থাকা প্রতিটি মুহূর্ত যেন এখন স্মৃতিতে বদলে গেছে। তার সততা, বন্ধুত্ব, হাস্যরস সবকিছুই মনে পড়ে।”
রাহুলের আকস্মিক মৃত্যু কেবল তার পরিবারের জন্য নয়, পুরো টলিপাড়ার জন্য শোকের বিষয়। সহকর্মী চন্দন সেন বলেন, “এমন একজন সৃজনশীল, পরিশ্রমী এবং বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষকে হারানো সত্যিই কষ্টদায়ক। রাহুলকে নিয়ে আমাদের গল্পগুলো স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।”
টলিপাড়া এখন থমথমে। যারা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের চোখে নেই শূন্যতার অনুভূতি। সেটে যে জীবন উজ্জ্বল করত রাহুল, সেই আলো এখন নিভে গেছে। সন্দীপ্তার মতো সহকর্মীরা এখন শুধু স্মৃতির হাত ধরেই তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার চেষ্টা করছেন।
এই দুঃসংবাদ যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে—কোনও মুহূর্তেই আমরা প্রিয় মানুষকে হারাতে পারি। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ, বন্ধুত্ব এবং অভিনয়শৈলী সবসময় স্মৃতিতে জীবিত থাকবে। সন্দীপ্তা ও অন্যান্য সহকর্মীদের চোখে তার প্রতিফলন দেখা যাবে দীর্ঘদিন।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না