সেই রাত, সেই স্মৃতি — এক বছর পরে আরজি কর অভিযানের ডায়েরি!
রাতের ডিউটির দায়িত্ব যখন পেলাম, প্রথমেই মনে পড়ে গেল সেই রাতটার কথা—আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে। আরজি কর হাসপাতালের অন্ধকার, নির্জন সিঁড়ি আর আতঙ্কে মোড়া পরিবেশ। তখনও এক সাংবাদিক হিসেবে ওখানে ঢোকার সাহস করেছিলাম। অন্ধকার ভেদ করে পৌঁছে গিয়েছিলাম হাসপাতালের চতুর্থ তলায়, যেখানে ঘটেছিল সেই ভয়ঙ্কর ঘটনা। এবার আবার সুযোগ হবে কি?
এই প্রশ্নটা ঘুরছিল মাথার ভেতর, যখন সম্পাদক আমাকে নিজের ঘরে ডেকে এই রাতের অ্যাসাইনমেন্টটা দেন। এমনটা আগেও বহুবার হয়েছে—নতুন দায়িত্ব হাতে এলেই মনে অদ্ভুত রকমের উত্তেজনা আর একটা চাপা উৎকণ্ঠা। পারব তো? ঠিকঠাক করতে পারব তো?
যাই হোক, রাত তখন প্রায় ৩টে। আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছতেই প্রথম চমক—ভেবেছিলাম চারপাশ থাকবে থমথমে, নিস্তব্ধ। কিন্তু না, দৃশ্যটা একেবারে ভিন্ন। আশপাশে দোকানপাট খোলা, আলো জ্বলছে। রাস্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CISF) জওয়ানদের সঙ্গে রাজ্য পুলিশের নজরদারি। হাসপাতালের গেটের পাশের সেই চেনা খাবারের দোকান—যেখানে মেলে ম্যাগি আর ডিম টোস্ট—সেখানে রীতিমতো ভিড়।
ফুটপাতের এই জটলা পেরোতে সময় লেগে গেল। ঘড়িতে তখন ৩টে বেজে ৭ মিনিট। আমার হাসপাতালের ভিতরে ঢোকার সময় এখনও ১৩ মিনিট বাকি। ঠিক এই সময়েই মনে পড়ে যায় সঞ্জয় রায়ের কথা—সেই প্রাক্তন সিভিক ভলান্টিয়ার, যে এক বছর আগে এই হাসপাতাল চত্বরেই এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করেছিল।
সেই ঘটনার অভিঘাত এখনও স্পষ্ট, এখনও অনুভব করা যায় চারপাশে। তাই এই ‘রাতসফর’ শুধু আরেকটা রিপোর্টিং অ্যাসাইনমেন্ট নয়, এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতির পরীক্ষাও।
এই এক বছরে অনেক কিছু পাল্টেছে, অনেক কিছুই থেকে গিয়েছে একই রকম। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরের এই রাত—তার আলো-আঁধারি, ব্যস্ততা আর চাপা ভয়—সব কিছুর মাঝে দাঁড়িয়ে আবারও সেই প্রশ্নটাই মাথায় আসে: এ বারও কি আমি পৌঁছোতে পারব সেই চতুর্থ তলায়? অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে পারব কি অতীতের সেই ভয়ানক মুহূর্তের মুখোমুখি?